আজ শনিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

সবার সহযোগিতায় মেয়রের পদটি পুনরুদ্ধার করতে চাই : কামরান

  • আপডেট টাইম : June 23, 2018 5:06 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাঁচ বছর আগে হারানো সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ পুনরুদ্ধারের আশা করে টানা দুইবারের মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান বলেছেন, জনগণ এবার আর তাকে ফেরাবেন না। দল যেহেতু আমারে ওপর আস্থা রেখেছে, সবার সহযোগিতায় মেয়রের পদটি পুনরুদ্ধার করতে চাই।

শনিবার বিকেলে ৫টার দিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক মেয়রকেই আবার প্রার্থী করার পর সিলেটে ফেরার পর স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী চন্ড্রিপুল এলাকায় তাকে বরণ করে নেন।  এসময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। এর পর তাকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে নগরীতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেটের ইতিহাসের এই প্রথম মেয়র আরো বলেন, দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। দলীয় সভাপতি আমাকে বছরখানেক আগেই সিগন্যাল দিয়ে রেখেছিলেন এবং কাজ করতে বলেছেন। আমি সেই লক্ষ্যেই মাঠে ছিলাম। জনগণের সঙ্গে কাজ করে গেছি। আমি গত নির্বাচনে হারার পরও জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাইনি, সব সময় মনেুষের পাশে ছিলাম। আশা করি এবার আর জনগণ আমাকে ফেরাবে না।

তিনি বলেন, দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ এখন সিলেটে একাট্টা। সবাই নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করবেন।

সিলেটে ভোটে কামরানের জয়জয়কার ছিল ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। প্রথমে সিলেট পৌরসভার কাউন্সিলর এবং পরে চেয়ারম্যান হন কামরান। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরের বছর বিএনপি সরকারের আমলে হওয়া নির্বাচনেও বাজিমাত করেন তিনি।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগারে থেকেও জিতে পরপর দুইবারের মতো মেয়র হন কামরান। তবে ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক ৩৫ হাজার ১০০ ভোটে হারিয়ে দেন তাকে।

টানা জয়ের পর অপ্রত্যাশিত পরাজয়েও কামরান রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে সরে যাননি। আর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জানাচ্ছিলেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে আবার ভোটের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আর সেই মোতাবেকই কাজ করে গেছেন তিনি।

কামরানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পেছনে সে সময় রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উচ্ছেদে ব্যাপক প্রাণহানির গুজব ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়। হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও সে সময় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আবেগি বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়।

তবে সময়ের আবর্তে শাপলা চত্বরে কথিত গণহত্যার প্রচার গুজব হিসেবেই প্রমাণ হয়েছে। সেখানে বিপুল প্রাণহানির দাবি করা হলেও পরে কারও নাম দিতে পারেনি হেফাজত। আর ইদানীং সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আর ব্যাপক হত্যার অভিযোগ তুলছেন না।

এর পাশাপাশি সে সময় আওয়ামী লীগের কোন্দলও কামরানের পরাজয়ের একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গত পাঁচ বছর এই বিষয়টি নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

(আজকের সিলেট/২৪ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ