আজ বুধবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

সকল অপারেটরে ৪০ পয়সা কলরেট!

  • আপডেট টাইম : জুলাই ৫, ২০১৮ ১:৫৯ অপরাহ্ণ

আজকের সিলেট ডেস্ক : দেশে মোবাইল ফোন নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) বা নম্বর এক রেখে অপারেটর বদলের সেবা চালু হওয়ার আগে অভিন্ন কল রেট নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই কলরেট নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করছে।

ভয়েস কলের ক্ষেত্রে অন নেট (একই নেটওয়ার্ক) ও অফ নেট (এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্ক) পার্থক্য তুলে দিয়ে সব অপারেটরের জন্য নির্ধারণ করা হবে অভিন্ন কল রেট। এজন্য খসড়া তৈরি করে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খসড়া কলরেটে ৪০ পয়সা অভিন্ন রেট প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে জানা যায়, তাদের সবার মিনিট প্রতি গড় কল চার্জ বিশ্লেষণ করে বিটিআরসি একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। তাতে প্রতি মিনিট সর্বনিম্ন ৪০ পয়সা ও সর্বোচ্চ এক টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অপারেটর ও গ্রাহক কোনো পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

বর্তমানে বিটিআরসি নির্ধারিত সর্বনিম্ন চার্জ অন নেট প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা, অফ নেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ প্রতি মিনিট দুই টাকা। অর্থাৎ অপারেটররা ২৫ পয়সা থেকে দুই টাকার মধ্যে কল চার্জ নির্ধারণ করে থাকে। আর গ্রাহকরা অপারেটরভেদে অননেটে প্রতি মিনিট ৩০ পয়সা থেকে ৩৯ পয়সায় এবং অফনেটে ৯১ পয়সা থেকে এক টাকা ৪০ পয়সায় কল করার সুযোগ পাচ্ছে। এই পার্থক্য সামনে থাকবে না।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এমএনপি সেবা চালুর আগেই এটি চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কলরেট ৪০ পয়সা হচ্ছে নাকি ঊর্ধ্বসীমা বা নিম্নসীমা থাকবে তা অর্থ মন্ত্রণালয় জানাবে। দেখতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি কীভাবে দেখে।’

সম্প্রতি মোবাইল ফোন অপারেটর রবির মহাব্যবস্থাপক (পলিসি, রেগুলেটরি স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড রিসার্চ) মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, ‘সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে আমরা এমএনপি সেবা চালুর আগেই অফ নেট ও অন নেট ভয়েস কলের ক্ষেত্রে একক সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করতে সরকারকে অনুরোধ করছি।’ তিনি মনে করেন, বর্তমানে অন নেট ও অফ নেট ব্যবস্থার ফলে প্রতিযোগিতায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে, পিছিয়ে পড়ছে অন্য অপারেটররা।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের বক্তব্য, ‘অন নেট ও অফ নেট কল চার্জের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে তা কমিয়ে আনা যেতে পারে। কিন্তু ব্যবধান একেবারে তুলে নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন ধরনের গ্রাহক আছে। তাদের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ সুবিধা রয়েছে। অন নেট ও অফ নেটের আলাদা রেট না থাকলে সেগুলো থাকবে না। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের প্রস্তাব, অন নেট কল সর্বনিম্ন ৩০ পয়সা ও অফ নেট কল চার্জ সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা করা হোক।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি এবং গ্রাহক সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ প্রস্তাব রেখেছি।’

এমএনপি সেবা চালু হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা পছন্দমাফিক অপারেটর পাল্টে ফেলতে পারবেন। গ্রাহকদের কাছে যে অপারেটরের সেবা পছন্দ হবে তিনি চাইলে বিনা দ্বিধায় সেই সংযোগ নিতে পারবেন। এজন্য নিজের মোবাইল ফোন নম্বর বদলাতে হবে না।

এই সেবা পেতে হলে গ্রাহককে ৩০ টাকা ফি দিয়ে (প্রতিবার) আবেদন করতে হবে। এর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা চালু হয়ে যাবে। তবে আগের অপারেটরে ফিরতে হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হবে ৯০ দিন।

এমএনপি সেবার অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক। গত ৭ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে এক অনুষ্ঠানে যৌথ কনসোর্টিয়ামের উদ্যোক্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানি চূড়ান্তকরণের নোটিফিকেশন পত্র তুলে দেওয়া হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে এই সেবা চালুর কথা ছিল ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেকের। সেই হিসাবে মে মাস নাগাদ এটি শুরুর তাগিদ দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

(আজকের সিলেট/৫ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...