আজ শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

১৪ বছর থেকে আটকে আছে ‘দশঘর’ ও ‘মিরপুর’ ইউপির নির্বাচন

  • আপডেট টাইম : July 31, 2017 6:04 AM

বিশেষ প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধি : জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সীমানা জটিলতার অজুহাতে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন না হওয়ায় চরম হতাশায় ও ক্ষোভে ফুসঁছেন ২টি ইউনিয়নের জনসাধারণ

দুটি উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে পাড়ামহল্লায় আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হলেও নির্বাচন না হওয়া মীরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের ভোটার ও শিশু-কিশোরদের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। কবে এ দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী।

২০০৩ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। এতে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ আকমল হোসেন ও দশঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শফিক উদ্দিন।

২০০৮ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করতে আকমল হোসেন মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

পরবর্তীকালে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় ইউপি সদস্য জমির উদ্দিনকে মিরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অদ্যাবধি পর্যন্ত ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যানবিহীন পরিষদ ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

২০০৭ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ চলাকালীন জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লহরি গ্রামের একটি অংশ নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার সাথে সীমানা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ঐ সময়ে হাজি আব্দুল মালিক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। এদিকে আবার ২০১৫ সালে মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী মাহবুবুল হক শেরিন মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।

সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি মহল মিরপুর ইউনিয়নের নির্বাচন দাবি করলেও অপর আরেকটি মহল নির্বাচন চায় না। এদিকে একই কারণে ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক উদ্দিন স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ায় ঐ সময় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ছাতিরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানেও চেয়ারম্যানবিহীন ইউনিয়ন পরিষদ ও জনসাধারণের উন্নয়ন কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

সম্প্রতি মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সহস্্রাধিক ভোটার স্বাক্ষরিত একটি আবেদন কপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া হয়। মিরপুর ইউনিয়ন নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আব্দুল কাদির, যুগ্ম আহবায়ক ছাদিকুর রহমান ছাদ স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, সারা বাংলাদেশের ন্যায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ২০১১ সালে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং তা যাচাই-বাছাই করে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পরে হঠাৎ করে নির্বাচন বানচাল করতে একটি মহল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করে নির্বাচন স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলা এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এদিকে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সাধারণ জনগণ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মিরপুর ইউনিয়ন নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি ও এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ সভাসমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বুধবার বিকেলে মিরপুর বাজারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

(আজকের সিলেট/৩১ জুলাই/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ