আজ মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

নৌকা হারার নেপথ্যে!

  • আপডেট টাইম : August 1, 2018 3:39 PM

অতিথি প্রতিবেদক : সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার কয়েকটি কারণ বেরিয়ে এসেছে। আর সেগুলো হলোÑ সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতাদের ষড়যন্ত্র, ধানের শীষে জাল ভোট ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি মন্তব্যের বিষয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজেদের ব্যক্তিগত পদ-পদবির জন্য মরিয়া রয়েছেন সিলেট আওয়ামী লীগে। কথিত রয়েছে, ২০১৩ সালের নির্বাচনে নিজ দলের গাপটি মেরে থাকা কয়েকজনের ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগের কামরান সেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এ অভিযোগ উঠেছিল, দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, অর্থমন্ত্রী বলয়ের জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনেকটা দূরত্ব তৈরি হয় কামরানের। বিশেষ করে উল্লেখিত বলয়ের সঙ্গে। আর সেই থেকে ‘জননন্দিত’ কামরান মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি আবারও চাঙা হয়ে ওঠেন। রাজনৈতিক ছাড়াও এমন কোন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান নেই যেখানে তার উপস্থিতি ছিল না। এরইমধ্যে পুনরায় এবারের নির্বাচনেও অনেক বাধা পেরিয়ে দলীয় প্রার্থী হন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। শুরু থেকে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও শেষ পর্যায়ে নির্বাচনী ফলাফলে তা পাল্টে যায়। ফলে মানুষের মুখে ফের গত নির্বাচনের কাহিনী সামনে আসছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে থেকেই সাংগঠনিক ভিত ভেেেঙ যায় দলটির সিলেট শাখার। একটি নির্বাচনে যেভাবে কাজ করতে হয়, তাতে অদক্ষতা ও ব্যর্থতার পরিচয় মিলেছে। নির্বাচনের দিন অসংখ্য কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়নি আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের। যে সব যুবকরা নৌকা প্রতীকের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সেøাগান দিচ্ছিল তারাই কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে জাল ভোট দিয়েছে। ফলে এদের প্রতিরোধ করার মতো আ’লীগের কেউ সেখানে ছিল না।

আবার কোন কোন নেতা মনে করছেন, ‘জনপ্রিয়’ কামরান যদি ফের মেয়র নির্বাচিত হন তাহলে তার স্রোত আর থামানো যাবে না। ফলে গোপনে তারা তার বিরোধিতা করেন বলে আলোচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট হচ্ছে, কামরানের পরাজয়ে অনেকে খুশি। নয়তো আগামীতে তার ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু বাবার পরিবর্তে দল থেকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করতেন। এ ধরনের অনেক বিষয়কে সামনে রেখে ‘নৌকা’ প্রতীকের কথা না ভেবে ব্যক্তি কামরানকে ঠেকাতে মাঠে ছিল একটি গ্রুপ। এছাড়া কামরান নিজেও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। শুরু থেকেই তার সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ দেয়ার মতো কেউ ছিল না। বিষয়টি শুভাকাক্সক্ষীরা বারবার তাকে অবগত করলেও তিনি তা পাত্তা দেননি।

এদিকে, ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঘোষিত ২৬টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ বিপুল ভোটও পান। দেখা গেছে, এই কাউন্সিলররা নিজের নির্বাচন করতে গিয়ে নৌকা প্রতীক্ষের পক্ষে কোন কাজ করতে পারেননি। এমনকি ওই ওয়ার্ডের নেতারাও ছিলেন কাউন্সিলর নিয়ে ব্যস্ত। ফলাফলে দেখা গেছে, অনেকগুলো ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর বিজয়ী হলেও সেই কেন্দ্রগুলেতে মেয়র প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। সেগুলোতে সাংগঠনিকভাবে কামরান বা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কোন কাজ করা হয়নি।

এছাড়া নির্বাচনী ফলাফলের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেও ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভোটের দিন দুর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আরিফ-কামরান দু’জনই ভালো। দুজনই উন্নয়ন করেছে। তার এ বক্তব্য অনেকটা প্রভাব ফেলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে। এছাড়া একই সময় তিনি বলেছেন, ‘দিবা রানী (মহিলা কাউন্সিলর) একটি গুন্ডি। সে যাতে বিজয়ী না হতে পারে।’ এমন বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ সম্প্রদায়ের কয়েকজন তরুণের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায় ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। এই তরুণদেরও কাছে টানতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

 

 

(আজকের সিলেট/১ আগষ্ট/ডি/সংবাদ/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ