আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

  • আপডেট টাইম : August 1, 2017 6:00 AM

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বোরো, আউশ ও বোনা আমন ধান হারানোর পর কৃষকরা আমন চাষেও এখন ভরসা পাচ্ছেন না। কিছুদিন হলো রোপা আমনের মৌসুম শুরু হয়েছে। জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ পুরোদমে চললেও, জেলার বন্যা আক্রান্ত বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না। বীজতলা ও আমনের চাষ করা জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষকরা জানান, ২০/২৫ দিনের মধ্যে যদি জমি থেকে বন্যার পানি না নামে, তবে আমন চাষে বিরাট লোকসান হবে। চলতি বছরে চৈত্র মাসের আকস্মিক বন্যায় বোরো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা ৫০ ভাগ ধানও গোলায় উঠাতে পারেননি। ঘাটতি পূরণের আশায় কৃষকরা আউশ ধান চাষ করেন। কিন্তু বর্ষার ঢলে তাও তলিয়ে যায়। জেলার কাওয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওড় এলাকায় তৃতীয় দফা দীর্ঘ বন্যায় তলিয়ে যায় জনপদের বোনা আমন, আউশ ও আমনের বীজতলা এবং আমনের ফসলি জমি।

চারটি উপজেলার স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, ১৮ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৭১০ হেক্টর রোপা আমনের ধানের জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। আর ১ হাজার ৩৯৭ হেক্টর আউশ ও বোনা আমন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালের হিসেবে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজনগর উপজেলার হাওড় জনপদের পাঁচগাঁও ইউনিয়নের উতাইসার, কানিকুল, পাঁচগাঁও ও শ্রীভোগ এলাকার আউশ, বোনা আমন ও আমনের বীজতলা এখনো পানির নিচে। মুন্সীবাজার ইউনিয়নের আলিছেরগাঁওয়ে একই চিত্র।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বিবার্তাকে জানায়, চৈত্রমাসের আগাম বন্যায় প্রথমে নিঁচু এলাকার বোরো ধান তলিয়ে যায় ফলে কৃষকরা ৫০ ভাগ ধানও গোলায় উঠাতে পারেননি। উঁচু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণে উৎপাদনের অর্ধেক ধান সংগ্রহ করেন তারা। প্রান্তিক চাষিরা ঘাটতি পূরণের আশায় আউশ ও বোনা আমন চাষ করেন। দীর্ঘ একমাসের বন্যায় হাওড় পাড়ে লাগানো এ ফসল তলিয়ে যায়। এর সাথে আমনের বীজতলা ও আমন লাগানোর জমি এখনও ৪/৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। আগামী ২০/২৫ দিনের মধ্যে যদি পানি ক্ষেত থেকে না নামে, তাহলে আমন চাষ ব্যাহত হতে পারে বলে আশংকা করছেন চাষিরা।

আলিছেরগাঁও গ্রামের কাপ্তান মিয়া, রফিক মিয়া, অকিল চন্দ্র শীলসহ আরো অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ৫ একর জমি এখনও প্রায় ৩ হাত পানির নিচে রয়েছে। ক্ষেতের জমি থেকে পানি নামতে ক্ষেতের মৌসুম চলে যাবে বলে আশংকা তাদের। গংগাদীঘির জমিতে সমছু মিয়ার ২ একর জমি পানির নিচে ২৫ শতাংশ চারা নিমজ্জিত। পাঁচগাঁও ইউনিয়নের উতাইসার গ্রামের আনু মিয়ার ৭ শতাংশ চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে। কানিকুল গ্রামের খালিছুর রহমানের ২৩ শতাংশ চারা তলিয়ে গেছে।

শ্রীভোগ গ্রামের আকবর মিয়া জানান, তার ৩ একর জমিতে এখনও ৩/৪ হাত পানি। একই এলাকার কৃষক জয়নাল মিয়া জানালেন তার ৯ একর জমিতে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বীজ ক্রয় করে আউশ ধান লাগিয়েছিলেন। এখন সব পানির নিচে, কীভাবে এই ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত বন্যা কবলিত চাষিদের ক্ষতির বিষয় জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুত একটি সুরাহা হবে।

 

(আজকের সিলেট/১ আগষ্ট/ডি/এসসি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ