আজ শনিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

সুনামগঞ্জে ব্লেড সিজার করা সেই ডাক্তার গ্রেপ্তার

  • আপডেট টাইম : August 14, 2018 12:29 PM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ব্লেড দিয়ে সিজার করা সেই দুই পল্লী চিকিৎসকের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ। তার নাম লাল মোহন বর্মণ (৪৫)। তিনি উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের মদন মোহন বর্মনের ছেলে।

মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে লাল মোহনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে পল্লী চিকিৎসক লাল মোহন বর্মন ও নরুল আমিন বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাহিরপুর থানা পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তের বীরেন্দ্রনগড় এলাকার জিরো লাইনে অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে তাহিরপুর থানার ওসি ননন্দন কান্তি ধরের নেতৃত্বে মামলার তদর্ন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহিত মিয়াসহ অপর ফোর্সদের সহযোগীতায় লাল মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় বালিজুরী ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে পল্লী চিকিৎসক অপর আসামি নরুল আমিন বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, ওই দুই চিকিৎসককে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত ছিল।

এদিকে অর্থের বিনিময়ে এ ঘটনার মিমাংসা করতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ওই মৃত নবজাতক ও আহত প্রসূতির স্বামী সুজিত বর্মন বলেন, আমার সুস্থ বাচ্চাটিকে মেরে ফেলল। আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এখন আমি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। আমি ওই ডাক্তারদের বিচার চাই।

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে বড়খলা গ্রামের সুজিত বর্মনের স্ত্রী শৌমরী বর্মনের প্রসব ব্যথা উঠলে সুজিতের পরিবা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক লাল মোহন বর্মন ও নরুল আমিন নামের দুজনকে বিষয়টি জানান। ওই দুই ডাক্তার গভবর্তীর শরীরিক অবস্থা দেখে পরিবারের লোকজনকে জানায় পেটের বাচ্চা মারা গেছে। আর মায়ের অবস্থা বেশী ভাল না।

এই অবস্থায় সুজিতের পরিবারের লোকজকে দুই ডাক্তার আরও জানায়, দ্রুত সিজার করাতে হবে। আর তারা নিজেরাই সিজার করতে পারবে বলে জানায়। পরে ওই ডাক্তারদের পরামর্শে সুজিতের বাড়িতেই সিজার করতে গিয়ে ব্লেড দিয়ে বাচ্চা বের করে আনতে গিয়ে নবজাতক শিশুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলে। এতে বাচ্চাটি মারা যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রসূতিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

(আজকের সিলেট/১৪ আগস্ট/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ