আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

অনিশ্চিত ৪৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা

  • আপডেট টাইম : August 1, 2017 2:00 PM

আজকের সিলেট ডেস্ক : চলতি বছর নিবন্ধন সম্পন্ন করা প্রায় ৪৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা প্রাপ্তিতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজ করেছেন- এমন যাত্রীদের জন্য হঠাৎ করেই দুই হাজার রিয়েল দাবি করে বসেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। ভিসা আবেদনের সঙ্গে টাকা প্রদানের রসিদ না দিলে ই-ভিসার আবেদনপত্র গ্রহণ করছে না সৌদি দূতাবাস।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীরা। হজযাত্রার শুরুতেই সৃষ্টি হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। যাত্রীদের অভিযোগ, তারা প্যাকেজ অনুযায়ী এজেন্সিগুলোকে সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। অধিকাংশ হজযাত্রীই ঢাকার হজ ক্যাম্পে এসে ফ্লাইটের অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ ২০০০ রিয়াল (প্রায় ৪৪ হাজার টাকা) দেয়ার কথা শুনে তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হজ এজেন্সিগুলোও। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে যত দ্রুত সম্ভব গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব)।
এছাড়া হজযাত্রীর অভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে বিমানকে। গত দুই দিনে ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা খুব শিগগিরই নিরসন না হলে হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করেছেন, তাদের ভিসার আবেদনের সঙ্গে দুই হাজার রিয়েল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে শুনেছি। সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তির সময় এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ছিল না। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে গত সপ্তাহে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্যই নয়, বিশ্বের সব দেশের হজযাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে রিয়েল পরিশোধ করেই ভিসা নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের আকস্মিক এ তুঘলকি সিদ্ধান্তে প্রায় ২৭ হাজার ভিসা নিতে চরম বিপাকে পড়েছে হজ এজেন্সিগুলো। এছাড়া ১৮ হাজার হজযাত্রীর ভিসা কার্যক্রমই শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা পেতে তাই বিলম্ব হবে। হাব মহাসচিব বলেন, বৃহস্পতিবার সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়া যাত্রীপ্রতি (২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করেছেন) ২ হাজার রিয়েল দাবি করায় পুরো হজ সিডিউল ভেঙে পড়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর এ ধরনের হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার। তাছাড়া প্রতিবছর হজ পালন করেন এমন মোয়াল্লেম ও এজেন্সি মালিক আছেন প্রায় ২ হাজার। এর বাইরে কোনো পরিবার বা গ্রুপভিত্তিক হজযাত্রীদের একজন যদি এর আওতায় পড়েন তাহলে পুরো টিমের যাত্রা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এর সংখ্যাও ৫ হাজারের বেশি। এছাড়া সৌদি আরবে কম বেতনের সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোয়াল্লেম না পাওয়ায় বাংলাদেশের ৯১টি হজ এজেন্সি এতদিন হজ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। মাত্র গত সপ্তাহে তারা এ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ ৯১ হজ এজেন্সির কাছে ১৮ হাজার হজযাত্রী আছেন। তাদের ভিসা পেতে আরো ১০-১২ দিন সময় লাগবে। সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হবে এজেন্সিগুলোকে। যার কারণে এয়ারলাইন্সগুলো সিডিউল অনুযায়ী যাত্রী পাবে না। এতে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হবে।

বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) আলী আহসান বাবু বলেন, বিমান এ বছর সাড়ে ৪ হাজার অতিরিক্ত হজযাত্রী পরিবহনের ক্যাপাসিটি তৈরি করে রেখেছে। কাজেই কমপক্ষে ১০টি স্লট বাতিল হলেও বিমানের কোনো সমস্যা হবে না। তবে এর বাইরে কোনো স্লট বাতিল হলে বিমানের সিডিউলে সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ বিমানকে নতুন করে সৌদি সিভিল এভিয়েশনের কাছ থেকে স্লট নিতে হবে। মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী নামে হজ এজেন্সির এক মালিক বলেন, বিভিন্ন হজ এজেন্সি এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের টিকিট কিনে বসে থাকলেও ই-ভিসা জটিলতার কারণে হজ পালনে যেতে পারছেন না।

হাবের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম বাহার এ প্রসঙ্গে বলেন, শুধু বাংলাদেশ বিমানই নয়, সৌদি এয়ারলাইন্সেরও একাধিক ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে বাতিল হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করতে না পারায় ই-ভিসার আবেদন করতে বিলম্ব হচ্ছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে হাব মহাসচিব জানান, বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। তবে ২০০০ রিয়াল প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত বিজ্ঞপ্তি আকারে জানিয়ে দেয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে তারা ধর্ম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, আজ-কালের মধ্যে সরকার এ নিয়ে মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি দেবে। অন্যথায় এজেন্সিগুলোকে টাকা আদায়ে সমস্যা হবে। এতে ভিসা সংগ্রহ করতে আরও দেরি হবে।

হজ অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সোমবার পর্যন্ত ৪২ হাজার হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭৬২ হজযাত্রী সৌদি গেছেন।

 

 

(আজকের সিলেট/১ আগষ্ট/ডি/যুগান্তর/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ