আজ শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

অনাদরে পড়ে আছে শেখ হাসিনা শিশুপার্ক?

  • আপডেট টাইম : September 21, 2018 6:00 AM

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্মিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ এখনো চালু হয়নি। ৯টি রাইড স্থাপন হলেও পুরো কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পার্কটি চালু হচ্ছে না। পার্কের ভেতরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ঝোপঝাড়। যেন অনেকটা অবহেলা আর অনাদরেই পড়ে আছে এই পার্কিটি।

তবে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারিতে পার্কটি চালুর জন্যে আমরা চেষ্টা করছি।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের হবিনন্দী মৌজায় (আলমপুরে) ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত শিশু পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেয় সিটি কর্পোরেশন। পরিত্যক্ত পার্কটিকে নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যে ৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত বছরের জুলাইয়ে পার্কে রাইড স্থাপনসহ উন্নয়ন কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্কটি গত জুলাই মাসে চালু হওয়ার কথা থাকলেও পুরো কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পার্কটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি চীনা কোম্পানির সাথে চুক্তি করে পার্কের রাইড স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে পার্কে ম্যাজিক প্যারাস্যুট, মনোরেল, ভিজিটিং ট্রেন, পাইবেটশিপ, টুইস্টার, বাম্পার কার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, ফ্যারসেল ও জাম্পিং ফ্রগসহ ৯টি রাইড স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাজিক প্যারাস্যুটে এক সাথে ১৮ জন ৭০ ফুট উঁচুতে উঠানামা করতে পারবে। মনোরেলে মাটি থেকে ১৫ ফুট উচ্চতায় ১ হাজার ৩৬১ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে। মনোরেলের লাইনটি পার্কের চারিদিক ঘুরিয়ে স্থাপন করা হয়। এর ফলে পার্কের চারদিকেই ঘুরবে মনোরেল। ভিজিটিং ট্রেনে এক সাথে ২৬ জনকে নিয়ে ৪২০ ফুট পর্যন্ত ঘুরা যাবে।

এদিকে, রাইড স্থাপন সম্পন্ন হলেও পার্কের অভ্যন্তরে স্থাপনকৃত এ সকল রাইডে যাতায়াতের জন্যে রাস্তাসমূহ এখনো তৈরি করা হয়নি। পার্কের ভেতরের প্রায় পুরো অংশেই ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছে। কেবল বনের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে স্থাপনকৃত মূল্যবান রাইড সমূহ। সীমানা প্রাচীরের উপর বসানো হয়নি তারকাঁটা। দেয়া হয়নি নতুন রং। প্রধান ফটকে নেই সাইনবোর্ড। মূল সড়কের সাথে নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নামকরণ করতে ডিও (অটো সরকারি পত্র) লেটার দেন। ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পার্কের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেয় ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। এর আগে পার্কটির নাম ছিল ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের আগ্রহ ও নির্দেশে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডে শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে ১৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নসহ পুরো দায়িত্ব পায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। হবিনন্দী মৌজায় ৩ দশমিক ৭৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয় পার্কের নির্মাণ কাজ। এর নাম দেয়া হয় এম. সাইফুর রহমান শিশু পার্ক।

২০০৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ এর জুন পর্যন্ত পার্কে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। এই অর্থ ভূমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, আভ্যন্তরীণ লাইটিং, গাছের চারা রোপণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, টিকেট কাউন্টার নির্মাণ, প্রধান ফটক নির্মাণে ব্যয় হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ২০০৮ সালের জুলাইয়ে ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ফেরত নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার পরই পার্কের কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এক সময় পার্কটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। দিনে গোচারণ ভূমি আর রাতে মাদকসেবীদের অবাধ আড্ডা এভাবে চলে যায় ১০ বছর। ১০ বছর পর প্রকল্পটি আবারো আলোর মুখ দেখে। নতুন করে পার্কটি চালুর উদ্যোগ নেয়ার পর সেই অন্ধকার চিত্র পাল্টে যায়।

পার্কে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের দু’পাশের পৃথক ভবনে কয়েকজন শ্রমিক বসবাস করছেন। আপাতত কাজ বন্ধ তাই তীব্র গরমের সময়ে অলস সময় পার করছেন। সৈয়দ রোশন আলী নামের একজনের সাথে কথা হয়।

নিজেকে সাব-কন্ট্রাক্টর পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, সবকটি রাইড স্থাপন শেষ। এখন অভ্যন্তরের রাস্তা নির্মাণ হবে। ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার হবে। এর আগেও গতবার পার্কের ভেতর পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছিল। এ সময় পার্কের ভেতরে চারটি গরু ঘাস খেতে দেখা গেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, গত বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়। আমরা আশা করেছিলাম এ বছরের জুলাইয়ে পার্কটি চালু হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকায় আশা করি জানুয়ারিতে পার্কটি চালু করা সম্ভব হবে। এজন্যে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্কে প্রবেশ ফি থাকবে। রাইডের জন্যও আলাদাভাবে ফি দিতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ