আজ শনিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ডায়রিয়ায় শিশুমৃত্যু

  • আপডেট টাইম : September 22, 2018 5:00 AM

ডায়রিয়ায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা কমেনি এখনও আমাদের দেশে। ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব আশংকাজনক বলেই অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। এখনও শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া। দেখা গেছে দুই বছরের কম বয়সী প্রতি পাঁচজনে একজন শিশু প্রতিবছর মাঝারি থেকে গুরুতর ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। অতীতে এই রোগ মহামারী আকার ধারণ করেছিলো। সাম্প্রতিককালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে এই রোগের প্রকোপ কমেছে ঠিকই, তবে এর প্রভাব আছে এখনও। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকটতা এখনও বেশি। এই পেক্ষাপটে ডায়রিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ক গবেষণায় ইতোমধ্যেই সাফল্য অর্জন করেছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে নবজাতকের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ‘রোটা ভাইসার’ এর নাম। রোটা ভাইরাসসহ অন্যান্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে প্রতিবছর দেশে আট লাখ শিশুকে ডায়রিয়ায় মৃত্যু হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী দুই মাস পর্যন্ত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। রোটা ভাইরাস ছাড়াও শিশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় আবারও তিনটি কারণ রয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরী যে, বাজারে রোটাভাইরাসের টিকা পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যান্য ভাইরাসের টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। শুধু শিশু নয়, নানা বয়সের মানুষেরাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। অতীতে দেশের গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিলো। তখন সচেতনতার অভাবে ডায়রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হতো। এই ডায়রিয়াকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ একটি ‘অভিশাপ’ হিসেবেই মনে করতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ধারণাও বদলে গেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, ডায়রিয়ার কারণে মানবদেহে সৃষ্ট পানি শূন্যতা রোধে খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবন। গত প্রায় তিন দশক ধরে খাবার স্যালাইনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেছে মানুষ। ইতোমধ্যেই হাতে তৈরী স্যালাইনের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন কোম্পানীর তৈরি প্যাকেটজাত স্যালাইনও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণই হচ্ছে ডায়রিয়া। তবে আমাদের দেশে এর প্রকোপ বেশি। এখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশির ভাগ শিশু। নবজাতকসহ দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা আশংকাজনক। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলছে নানা গবেষণা। আর এই গবেষণার সাফল্যও এসেছে। সেটা হলো ‘রোটা ভাইরাস’কে চিহ্নিত করণ। এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ডায়রিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। অবশ্য এর টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও যে তিনটি ভাইরাস ডায়রিয়া সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণের উপায় বের করতে হবে। সর্বোপরি শিশুর ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকসহ মা-বাবার সচেতনতা সবচেয়ে জরুরী।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ