আজ মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

হবিগঞ্জ ২ : তৎপর আ’লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ৯, ২০১৮ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনে) মাঠ পর্যায়ে তৃণমূলের মনজয় করতে মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে প্রায় হাফজন প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের। তবে তৃণমূলের দৃষ্টি আকর্ষণে পিছিয়ে নেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

আওয়ামীলীগ থেকে হাফ ডজনের অধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে একজন করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী তোড়জোরের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মধ্যেই নির্বাচনী আমেজটা একটু বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের যদি বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে তবে এ ক্ষেত্রে সুবিদা পাবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। গত উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় ভরাডুবি হয় আওয়ামীলীগের।

এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি পয়েন্ট, হাঠ বাজার ও মোড়ে মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন ও তোড়ন টানিয়ে ও সভা সমাবেশের মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। অনেকে আবার মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দের সাথে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি আর মৎস্যসহ প্রকৃতিক সম্পদে ভরপুর হবিগঞ্জ-২ আসন। দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা ও গ্রাম বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ এর সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ ২ আসনটি। এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। উপ-নির্বাচনসহ এ পর্যন্ত ১১টি নির্বাচনের মধ্যে ৮টি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। অনেকে আবার এ আসনকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বর্তমানে এ আসনের এমপি হচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হতে কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রে জোর লবিং ও তৃণমূলে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য চৌধুরী আবু বকর ছিদ্দিকী।

অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মোঃ ইকবাল খান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, বানিয়াচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা, হবিগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রেজাও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত আহমেদ আলী মুকিব আবদুল­াহ’র নামও শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি থেকে একক ভাবে আসনটিতে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল। দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এমপি আব্দুল মজিদ খান জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জের ইতিহাসে সবছেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহৃত রাখতে এ আসনটিতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মনোনয়ন দেবে দলের হাই কমান্ড। আমার দলের বাইরে গিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নাই। তাই দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই কাজ করব।

চৌধুরী আবু বকর ছিদ্দিকী জানান, আমি বিগত ৪টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হলেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষেই নৌকার বিজয়ের জন্য সাধ্যমত কাজ করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভাটি বাংলা হিসেবে খ্যাত বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তর উন্নয়ন ও ব্যাপক জন কল্যানের স্বার্থে আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।

ড. মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ গড়তে চাই। যে ফর্মেই হোক এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যেতে আমি বদ্ধপরিকর। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন জানান, আমরা আশা করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহৃত রেখে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় হবেই। তবে দল কাকে মনোনয়ন দেবে সেটা দলের হাইকমান্ড জানেন। আবারও বলতে পারি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপি প্রার্থী অবশ্যই জয়ী হবে। তবে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও তিনি জানান। এ আসনে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব শংকর পাল। সাধারণ জনগণের কাছে তিনিও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন ব্যাপক।

সব দলের অংশগ্রহণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান ১ লাখ ২২ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন পেয়েছিলেন ৬৭ হাজার ৬৯ ভোট। ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আবদুল মজিদ খান। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৬৫ হাজার ৩৬২। তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল পেয়েছিলেন ২১ হাজার ৫৫৯ ভোট। দলীয় প্রার্থী ছাড়াও আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংবাদিক আফসার আহমেদ রুপকসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

উলে­খ্য, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোপাল কৃষ্ণ মহারতœ এমপি হন। এরপর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল এমএ রব, ১৯৭৯ সালে বিএনপির অ্যাডভোকেট জনাব আলী, ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সিরাজুল হোসেন খান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ’৯৬-র নির্বাচনে টানা দু’বার এমপি হন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ তৎকালীন সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ। তার মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালের উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি নাজমুল হাসান জাহেদ। সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান নির্বাচিত হন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ