আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

নবীগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক জিনসিন

  • আপডেট টাইম : August 7, 2017 6:25 AM

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাট বাজারের বেকারি, ওষুধ ও মুদি দোকানে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক অবৈধ যৌন উত্তেজক জিনসিন প্লাস নামক সিরাপ অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত যৌন উত্তেজক সিরাপটি দৈহিক মিলনে স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করলেও পরে শরীরের স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা হ্রাস করে। অপর দিকে এই সিরাপটির নেই কোনো দাফতরিক লাইসেন্স বা বৈধতা, এরপরও এই ক্ষতিকর সিরাপটি অবাধে স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ, প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হচ্ছে। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা তাদের বিকৃত মানসিকতার আনন্দ উপভোগ করার জন্য মাত্র ৪০ থেকে ৭০ টাকার বিনিময়ে এই ক্ষতিকর সিরাপ সেবন করছে।

কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সিরাপটি অধিক পরিমানে সেবনের ফলে স্মৃতিশক্তি, যৌন ক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসসহ শরীরের নানাবিধ রোগ হতে পারে। এতে করে একদিকে যেমন যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে অপরদিকে এই অবৈধ ওষুধ ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে।

মাদকের নেশায় বিপথগামী যুবক ও ছাত্র সমাজ। সেই সাথে নতুন ভাবে এলো যৌন উত্তেজক জিনসিন। নবীগঞ্জের আউশকান্দি এলাকার মুদির দোকানে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে যৌন উত্তেজক পানীয়। ফলে যুব সমাজের পাশাপাশি কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা না জেনে, না বুঝে বিপথগামী হচ্ছে।

সেভেন হর্স ফিলিংস, একটিভ এনার্জি ড্রিংকস, রেড জিনসিন প্লাস (ঢাকা ফার্মা), জিনসিন (এল টি ল্যাবরেটরিজ), জাহান মোশরুম গোল্ড (জাহান ফুর্ড এন্ড প্রোডাক্ট), ঈমান জিনসিন প্লাস (ঈমান ফুড এন্ড বেভারেজ লি), জিনি ল্যাবরেটরিজ, জিনাইল হার্বাল, নোবেল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি, জিনুইন হার্বাল, ফেমাস ফার্মাসিউটিক্যালসহ প্রায় ১৬ ধরনের জিনসিন পানীয় বাজার দখল করে রেখেছে। কয়েকটি কোম্পানির বিএসটিআই অনুমোদন থাকলেও বেশির ভাগ কোম্পানি অনুমোদন ছাড়াই এসব পানীয় বাজারে বিক্রি করছে।

এ উত্তেজকের গুণগত মান কেমন, কোথায় উৎপাদন হয়, পান করলে শরীরের কতটুকু ক্ষতি হতে পারে, তার কিছুই বিবেচনা না করে যৌন ক্ষমতাকে বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত এ পানীয় পান করছে তরুণ সমাজ। এসব পানীয়র বোতলে লেখা থাকে শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। অন্যদিকে এসব বোতলে মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখও লেখা থাকে না।

জিনসিন পাওয়ার খেয়েছে এমন বেশ কয়েকজন তরুণের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ পানীয় খেলে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় কিন্তু নিয়মিত ২/৩ বোতল খেলে যৌন সমস্যা দেখা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্র বলে, সিনিয়র এক বন্ধুর পালায় পড়ে এ পানীয় পান করে সে, তবে কি পরিমান খেতে হবে এ ব্যাপারে কারো কোনো ধারণা নেই। ফলে শারিরিক ভাবে নানান সমস্যা দেখা দেয়।

আউশকান্দি এলাকার স্থানীয় দোকানদার ইমরানের কাছ থেকে জানা যায়, প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে ছাত্র ও যুবকরা এ যৌন উত্তেজক পানীয় ক্রয় করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০/৬০ বোতল জিনসিন বিক্রি হয়। তরুণদের পাশাপাশি তরুণীরাও জিনসিন ক্রেতা, ফলে বিক্রি বেশি হয়। বেশি লাভ হয় বলে তারা এই জিনসিন বিক্রি করে বলে জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার আউশকান্দি বাজারে দোকানসহ প্রায় সব এলাকাতে প্রকাশ্যে এ পানীয় বিক্রি করা হয়। এ দিকে সচেতন সুশীল সমাজ এ সমস্ত ক্ষতিকর পণ্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণের জোর দাবি করেন।

তাই সচেতন অভিভাবক ও জনসাধারণ এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলনা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সকলের সু-দৃষ্টি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

(আজকের সিলেট/৭ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ