আজ বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

শান্তিনিকেতনে অশান্তি

  • আপডেট টাইম : October 11, 2018 11:11 AM

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গড়া শান্তিনিকেতন ক্রমশই নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠছে। আর তাই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তার কারণ, সদ্য ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা, যেখানে এক বয়স্কা মহিলাকে ছুরির মুখে আটকে রেখে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করা হয়েছে।

শান্তিনিকেতনে অবশ্য এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। সেখানে চুরি-ছিনতাইর মতো অপরাধ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কিন্তু প্রবীণ নাগরিকরা, যাঁরা বয়সোচিত কারণেই বাধা দিতে অক্ষম, তাঁদের টার্গেট করার ঘটনাও ইদানীং বাড়ছে – মূলত দুটো কারণে। এক, শান্তিনিকেতনের গাছপালা ঘেরা নির্জন পরিবেশে বাড়িগুলো একটা অন্যটার থেকে একটু দূরে দূরে এবং বেশিরভাগ বাড়িই বাগান দিয়ে ঘেরা, চারদিক খোলামেলা৷ আর দ্বিতীয় কারণ, শান্তিনিকেতনের যাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা, তাঁরা অধিকাংশই প্রবীণ। তাদের অনেকেই একা থাকেন অথবা ফাঁকা বাড়ি পড়ে থাকে স্থানীয় কেয়ারটেকারের ভরসায়। এই দুটি বিষয়ই নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত বিপদজনক। ফলে এর আগে কলকাতায় বা সল্ট লেক অঞ্চলে একলা বৃদ্ধ-

বৃদ্ধাদের ওপর যেভাবে একের পর এক হামলা ও ডাকাতি ঘটছিল, সেই একই উপদ্রব শুরু হয়েছে শান্তিনিকেতনে।

বীরভূম জেলা পুলিশ এ কারণে বাড়তি সতর্কতা নিতে শুরু করেছে। পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বোলপুর, শ্রীনিকেতন, শান্তিনিকেতন, প্রান্তিক এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, এমন প্রবীণ নাগরিকদের একটি ডেটাবেস তৈরি করার এবং নিয়ম করে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রবীণ মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার, খোঁজখবর নেয়ার, যাতে দুষ্কৃতকারীরা কোনো ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে কোনো একলা মানুষের ওপর হামলা করার আগে দু’বার ভাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এর আগেও শান্তিনিকেতন এলাকায় ‘‌আশ্বাস’‌ বলে একটি প্রকল্প চালু হয়েছিল, যার একই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি সফল হয়নি।

তবে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দারা মনে করছেন, এই দায়িত্ব একা পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের হতে পারে না। এ এক সমবেত দায়িত্ব, যাতে নাগরিকদেরও শামিল হতে হবে।

শান্তিনিকেতনের বাগানপাড়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান গ্রন্থাগারিক স্বপন কুমার ঘোষ যেমন স্পষ্টই বললেন, ‘‘‌আমরা যারা নাগরিক আছি, তাঁদেরকেও এটা একটু ভাবতে হবে। শুধু প্রশাসন, পঞ্চায়েত, পুলিশ করে দেবে, সেটা নয়। আমাদেরও তাদের সঙ্গে শামিল হতে হবে।”‌

স্বপন কুমার ঘোষ নানা সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথা বলেছেন। যেমন, আবাসিক এলাকাগুলোর প্রত্যেকটি বাড়ির চত্বরে যদি একটি করে জোরালো আলো লাগানো যায়, তা হলেও বিপদ অনেকটা কমবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এছাড়া এলাকাবাসীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাতপাহারার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যে পাহারা ব্যবস্থা আছে, সেটিকেও আরো সক্রিয় করে তোলা, শ্রীনিকেতন, প্রান্তিকের মতো জায়গায় একটি করে ফটক বসানো, এ রকম নানা কিছুর প্রস্তাব তাঁর আছে। এর সঙ্গে পুলিশের টহলদারি, আবাসিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলা, এগুলো তো আছেই।

কথাপ্রসঙ্গে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন আজন্ম শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা স্বপন কুমার ঘোষ। তিনি মনে করেন, মানুষে মানুষে যোগাযোগটা আগের মতো থাকলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়, এড়ানো যেত। এক সময় একজন আরেকজনের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতেন। এখন বয়সের কারণে অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে পারেন না, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয় না সবার। সেই সামাজিক বিচ্ছিন্নতারই সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ