আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে : ‘ডেঞ্জার জোন’ হাফ কিলোমিটার

  • আপডেট টাইম : অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক : ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাহাড়ি উঁচু নিচু আঁকাবাঁকা হাফ কিলোমিটার সড়কে ডাকাতদের যেন রাজত্ব চলছে। অহরহ এই সড়কে ডাকাতির ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রী সাধারনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শীত মৌসুমে এই পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করায় সড়কে ডাকাতের আতঙ্কের মাত্রা আরও তীব্রতর হচ্ছে। অথচ কামাইছড়া পাহাড়ি বাঁক থেকে রাবার বাগান পর্যন্ত হাফ কিলোমিটার সড়ক এলাকার ৩ কিলোমিটার দূরে স্থায়ীভাবে কামাইছড়া পুলিশের ক্যাম্প রয়েছে। তার পরও একই জায়গায় বার বার ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছে। ধরা পড়ছে না কোনও ডাকাত।

এছাড়াও মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। এতো কিছুর পরেও হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা অংশের কামাইছড়া থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রবেশদ্বার মুছাই নামক এলাকায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাকাত চক্রের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাস, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশার চালক, যাত্রীসহ কেউ-ই। সেজন্য কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প ও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কর্তব্যপরায়নতার ভূমিকা নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে।

গুরত্বপূর্ণ এ সড়কে স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী চুনারুঘাট উপজেলার ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ১২/১৩ জন ডাকাতকে সনাক্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু কোনভাবেই তাদের ধরতে পারছে না।

গাজীপুর রিজিয়নের আওতাধীন সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্যমতে গত রমজান মাস থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কে রাস্তার দুপাশের গাছ ফেলে কমপক্ষে ৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন পর্যন্ত রেহাই পাননি।

চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে পণ্যবহনকারী গাড়ী চালক ও সহকারীদের যোগসাজস রয়েছে ডাকাতদের সঙ্গে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এরা সংখ্যায় ৪০-৫০ জন। ১০ থেকে ১৫ জন অংশ নিয়ে ২/৩টি দলে বিভক্ত হয়ে মুখোশ পরে ডাকাতি করে। এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১০-১৫ হাজারেরও বেশী যান বাহন চলাচল করে। এই মহা সড়কে পুলিশের অপ্রতুল টহলের সুযোগ নিচ্ছে ডাকাতরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য বলেন, পণ্য বহনকারী চালক ও সহকারীদের যোগসাজস আছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাথে। তারা পন্য নিয়ে রওনা দেয়ার আগেই মোবাইল ফোনে ডাকাতদের তথ্য জানিয়ে দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা নিরাপদে অবস্থান নিয়ে গাছ ফেলে ডাকাতি করে। ডাকাতির পর লুট করা মালের একটি অংশ চলে যায় চালক ও সহকারীর কাছে।

র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আমরা অস্থির আছি। ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক এই মহাসড়কে ডাকাতিতে নতুন কয়েকটি চক্র সক্রিয়। আমাদের কাছে তথ্য আছে চুনারুঘাট, বাহুবল ও শ্রীমঙ্গল এই তিন এলাকার লোকজন এসব কাজ করছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করেছি। আশা করছি শিঘ্রিই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা যাবে’।

এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে ৫শ’ গজ দূরত্বে ডেঞ্জার জোন রাবার বাগানের পাহাড়ী রাস্তার বাঁকে সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর রাত ৮ টা ৫০ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত একটানা ৩০ মিনিট ডাকাতি সংঘটিত হয়। এদিন ডাকাতের কবলে পড়েন বাহুবল উপজেলার মিরপুরের চিচিরকুট গ্রামের বাসিন্দা জিতু মিয়া (৩২)। তিনি পেশায় হোমিও চিকিৎসক। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাঁতগাও লছনা এলাকায় রানী হোমিও হলের চিকিৎসক।

সেদিনের এই ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মত সিএনজি যোগে বাড়ি যাবার পথে রাবার বাগানের পাহাড়ী বাঁকে ডাকাতরা রাস্তার পাশের গাছ কেটে ফেলে প্রথমে একটি বালুবাহী গাড়ী আটকায়। এরপর হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস, এর পর আমার সিএনজিটি আটকায়।

তিনি বলেন, ডাকাতদের মুখোশ পড়া ছিল। তাদের মুখে শীতের দিনের মানকি টুপি ও ধুলা আটকানোর মাস্ক পড়া ছিল। এরা অন্ততঃ ২০-২২ জন ছিল। এক দুজন ছাড়া সবার পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। হাতে লাঠি ও দা’ ছিল। এসময় ডাকাতরা আমাকে মারধর করে মানিব্যাগ, ভিসা কার্ড, ভোটার আইডি কার্ডসহ ২৩শ’ টাকা লুটে নেয়। ডাকাতি চলাকালে একটি করে যানবাহন ডাকাতি করে সেই গাড়ীর লাইট নিভিয়ে রাস্তায় লাইন করিয়ে রাখে। এসময় অন্য ডাকাতরা রাস্তাজুড়ে দুই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে এদিক সেদিক হাঁটা হাটি করে।

তিনি বলেন, সেদিন ডাকাতির সময় রাস্তার ২ পাশে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন ছিল।

এদিকে এই ঘটনার ৮/১০ দিন আগে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে ৪-৫ মিনিটের রাস্তা রাবার বাগানের পাহাড়ী বাঁকের একই জায়গায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সাঁতগাও লছনা যাবার পথে ডাকাতদের কবলে পড়েন মিরপুর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক মো. ওয়াহিদ মিয়া।

তিনি বলেন, হাফ প্যান্ট ও মুখোশ পরা ডাকাতরা রাস্তার পাশের গাছ কেটে ফেলে রেখে যানবাহন আটকিয়ে প্রথমেই গাড়ীর বাতি নিভিয়ে ফেলতে বাধ্য করে। পরে আমার সিএনজির যাত্রীসহ আরো ৪/৫টি যানবাহন আটকিয়ে ডাকাতি করে।

কামাইছড়া পুলিশ ক্যম্পের এসআই মহরম বলেন, আঞ্চলিক এই মহাসড়কের রাবার বাগানের বাঁকের অংশটি কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। তার দাবি, ৭ অক্টোবরে ডাকাতি হয়নি, ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। আমাদের টহল পার্টি সামনে ছিল। ২ রাউন্ড গুলিও বর্ষণ করা হয়েছে ডাকাতদের উপর। লাঠি চার্জও করা হয়েছে। ডাকাতের হাতে দা’ থাকার কারণে তাদের কাছে যেতে পারেনি পুলিশ।

তিনি বলেন, এর আগে একই স্থানে রোজার পরে দু’বার এবং সর্বশেষ ৭ অক্টোবর ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাবলিক গাড়ী থেকে নেমে যাওয়ায় কোনটা পাবলিক আর কোনটা ডাকাত চিহ্নিত করা যায়নি। পাবলিক গাড়ী থেকে না নামলে ডাকাত ধরা যেত। এরপরও আমরা দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছি। আমার এলাকায় ২ বার ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। বড় রকমের কোন ডাকাতি হয়নি। বড় রকমের হলে তো মামলা হতো।

তিনি বলেন, ডাকাত প্রতিরোধে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুইটি টহল পার্টি দাঁড়িয়ে ডিউটি করি। আমার দশ কেজি ওজন কমে গেছে। আমার এখান থেকে প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি ভাই। এখন আর কি কইমু। এটা চুনারুঘাটের একটি রাস্তা গহীন জঙ্গল। পাহাড়ী এলাকা। এই রাস্তায় নামলে পরে খুঁইজা পাবেন না। আমরা গোয়েন্দা, ডিবি, সিআইডি, আমরা ক্যাম্প পুলিশ অনেক ভাবে ট্রাই করতেছি। গত কিস্তিতে আমরা পেয়ে গিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, এখানে ডাকাতি প্রবণ এলাকা। ডাকাতি হইতেই পারে। আমি অস্বীকার করবো না- ডাকাতি হবে না। মনে হয় আমার এন্টি কোন গ্রæপ আমার বিরুদ্ধে লাগার কারণে এখানে গাছ ফালায়, কিন্তু ডাকাতি করে না উঠে দৌঁড় দেয়। নতুন ১৭/১৮ বছরের ছোট ছোট পোলাপান এসব করছে। এদের আমি দেখি নাই। ডাকাতির দিন দুটি টহল পার্টি টহলে ছিল। আমি একটি ফোন পেয়ে ৫০/৬০ জন পাবলিক নিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা ৩-৪ মিনিটে যাই। এরা রানীগাঁও চুনারুঘাট রাস্তায় গহীন জঙ্গলে চলে গেলে খুঁজে পাইনা। আমাদের জনবল ১৭জন। পর্যাপ্ত। রাত্রিকালীন ডিউটিতে থাকে ৯জন। জনবলের সংকট নাই। আমি এখানে এসেছি ১৪ মাস। আমি আসার আগে ডাকাতরা বলছে আমার এক সাব ইন্সপেক্টরকে চিঠি দিয়ে বলছে ‘তোর কাল্লাটা যদি বাাঁচাইতে চাস তাহইলে এখান থেকে তো চলে যা। হে রাইতে রাইতে চলে গেছে। এরপর আমি এখানে আসছি। আসার পর মদন ডাকাত ক্রস ফায়ার হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাই এই নিউজটা কইরেন না। আমি এমনিতেই বিব্রত। আমার বারটা বাজি গেছে। প্রশাসনরে বোঝাইতে আমার অনেক কষ্ট হয়। এই কামাইছড়া লইয়া অনেক সমস্যা হইতেছে।

এই বিপজ্জনক ডাকাতি প্রবণ এলাকার হাফ কিলোমিটার এলাকার রাস্তার দুই পাশে দুইশ গাছ আছে। যে কোন একটা গাছ কেটে ফেললেই রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। গাছগুলো রাস্তার উপর এমনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন কামাইছড়া থেকে মুছাই পর্যন্ত নাম্বারিং করা চা বাগানের মালিকানাধিন গাছগুলো এরই মধ্যে অকশন হয়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেটে ফেলবে। বাহুবল ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় সরকারী ভাবে এসব স্থানে ২০-৩০টা লাইট বসানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে এখানে আমরা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করবো।

তিনি অনুরোধ করেন- ভাই নিউজটা কইরেন না, যেহেতু আমি আই সি। আমি দায় এড়াতে পারিনা।

তিনি বলেন, কামাইছড়া থেকে মুছাই পর্যন্ত পাহাড়ী এলাকাটা বিপদজ্জনক। সন্ধ্যাকালিন ৪জন ফোর্সসহ ২টা মোটর সাইকেলে টহল দেয়া হয় রাত ৯টা পর্যন্ত। এরপর ৯ টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৬টা পর্যন্ত ৪ জন করে দুইটা টহল পার্টি বের হয়। বর্তমানে মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার কথা শোনেন, মনে করেন আমার পার্টি রোডে। ডাকাতি হইছে তার থেকে ৫শ’ গজ দূরে-ঠিক আছে? যাইতে যাইতে তারা দৌঁড় দিছে। এর ভিতরে কি ডাকাতি হতে পারে। মাত্র এক সাইট দিয়ে ২টা গাড়ী। আরেক সাইট দিয়ে ৪ টা গাড়ী। মোট ৬টা গাড়ী। দুই মিনিটের মধ্যে পুলিশ গেছে। এর মধ্যে আমার এক পুলিশ ছুটি কেটে শ্রীমঙ্গল থেকে মটর সাইকেলে আসছিল। তার সাথে ডাকাতদের হিচিং কুস্তাকুস্তি বহুত কিছু হইছে। পুলিশ এসল্ট হইছে। ওই পুলিশ সদস্যের নাম জানতে চাইলে তিনি নামটা জানা হয় নাই বলে জানান। ভাই ডাকাতির নিউজ আসলে আমি জবাবদিহীতায় পড়ে যাই। এই যে মানুষের ভীতির কথা বলছেন? এখানে দিনে ডাকাতি হয়, সন্ধ্যায় ডাকাতি হইতো আগে। আমার আসার আগে এখানে ৬-৭ বার ডাকাতি হইছে। কুলাউড়ার এমপি সাহেবকে পর্যন্ত ডাকাতরা আটকাইছে। এখানে বড় বড় কিছু হয়। কিন্তু এবছর ইনশা আল্লাহ কমই হইছে। আমি ডাকাত ধরতে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আশা করি ডাকাতদের রোডেই ধরবো। এখনের ডাকাতরা নতুন ১৮-১৯ বছরের। চুনারুঘাট এলাকার।

ডাকাতির ঘটনায় কোন মামলা হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব ডাকাতির ঘটনায় কেউ মামলা করে না। ভাই আমি দুর্ভাগা! আমার উপর ডাকাতির ঘটনায় হিলঘর যাইতেছে। প্রত্যাহারের জন্য মৌখিক আবেদন করছি। মানুষ চায় সম্মানজনক প্রস্থানের। ব্যর্থতা নিয়ে প্রস্থান আমি মেনে নিতে পারিনা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নান্নু মন্ডল বলেন, মহ সড়কের নিরাপত্তা দেয়াই আমাদের মুল দায়িত্ব। এই আঞ্চলিক মহসড়কের মিরপুর থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রাস্তা এই ফাঁড়ির আওতায়। এর মধ্যে মহা সড়কের বিপজ্জনক জোন হিসেবে কামাইছড়া পাহাড়ি বাকঁ থেকে রাবার বাগান পর্যন্ত হাফ কিলোমিটার সড়ক এলাকা ডাকাত প্রবণ। গত রমজান মাস থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই এলাকায় কমপক্ষে ৭ বার একই স্থানে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

একই স্থানে কেন বার বার ডাকাতি হয় এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিরিবিলি পাহাড়ি বাঁক। এক বাঁক থেকে অন্য বাঁক সহজে দেখা যায় না। রাস্তার দুপাশে গাছ পালায় ঘেরা। রানীগাও ও চুনারুঘাট এলাকার লোকজন এসব ডাকাতিতে জড়িত। আশপাশ এলাকার লোকজনসহ চুনারুঘাট বর্ডার এলাকার সন্দেহভাজনদের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

মহাসড়কের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহা সড়কের নিরাপত্তায় সাতগাঁও চা বাগান এলাকা থেকে কামাইছড়া পাহাড়ি বাক পর্যন্ত একজন এএসআই এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যর টহল পার্টি থাকে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা এক পার্টি এবং সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আরেক পাটি ৫জন করে মহাসড়কে টহল দিয়ে থাকে। এই হাফ কিলোমিটার বিপজ্জনক এলাকায় ষ্ট্যান্ডবাই পাহারার জন্য হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত জনবল নেই। যদি পর্যাপ্ত জনবল থাকতো তাহলে পাহাড়ি বাঁক এলাকায় পাহারার স্থায়ী ব্যবস্থা করা যেত।

তিনি জানান, সাতগাও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ২২ সদস্যর জনবল থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৩জন। এর মধ্যে সাব ইন্সপেক্টর ১জন, এএসআই ১জন, এটিএসআই একজন ও ৬জন কনস্টেবল পদ বর্তমানে শূণ্য রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ