আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সুনামগঞ্জ ৪ : জাপাকে ছাড়তে নারাজ আ.লীগ, বিএনপিতে প্রার্থীজট

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ৩, ২০১৮ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার ৫টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসন সুনামগঞ্জ-৪। এ আসনটি পূর্ব থেকেই জাতীয় প্রার্থীর দখলে রয়েছে। তবে এবার ব্যতীক্রম কিছু ঘটতে যাচ্ছে। জাপাকে ছাড় দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। এই আসনটি দখল করার প্রচেষ্টায় এবং নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে বিএনপিতে রয়েছে একাধিক প্রার্থী।

এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বর্তমান সাংসদ এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিছবাকে। তবে বর্তমান সাংসদকে ছাড় না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে নির্বাচন করবেন প্রয়াত মন্ত্রী মেজর ইকবালের ছেলে ইনান চৌধুরী প্রিয়। এই আসনে তিন দলের মধ্যেই রয়েছে অভ্যন্তরীন কোন্দল। জেলার অন্যান্য আসন থেকে এই আসনে এবার নির্বাচনের চমক হতে পারে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরী। এরপর নির্বাচিত হন উনার সহধর্মীনি মমতাজ ইকবাল চৌধুরী। মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়ে যাওয়ায় উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি না আসায় বিনা ভোটে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিছবা। গত নির্বাচনে সহানুভুতি দেখানো হলেও এবারের নির্বাচনে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে একাদশ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করেন। এই ঘোষণার পরপরই জেলা আওয়ামী লীগের

সাধারণ সম্পাদক নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমনের নেতৃত্বে লাঙল হটাও, নৌকা ভাসাও শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। তাদের দাবি এই আসনে নৌকার কোনো বিকল্প নেই। ভাঙ্গাছাড়া দল দিয়ে এই আসনে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি। অন্যদিকে বিএনপিরও একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের আশায় মাঠে নেমেছে। তাদের দাবি সুনামগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় উন্নয়নের জোয়ারের ভাসিয়েছে। এই আসনের রাস্তাঘাটসহ সকল কিছু বিএনপি সরকারের অবদান।

তবে বিএনপির কোন্দলের কারনে এই আসনে ভরাডুবি হতে পারে বলে জেলা বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন, তার আপন ভাই এডভোকেট খায়রুল কবীর রুমেন, অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া।

তিনবারের সাবেক এই এমপির বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। এছাড়াও মনোনয়নের আশাবাদী হয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল লতিফ জেপি ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনয়ন প্রত্যাশী মতিউর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী এই আসনে আমাকে একবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি এই আসনটি উনাকে উপহার দিয়েছি।

এবারও আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে এ আসনটি উপহার দিতে পারব। কারন এই আসনে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের দৃশ্য আমরা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছি। আমি আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট জানান, এই আসনে নৌকার কোনো বিকল্প নেই। তাই নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষে তৃণমুল নেতা কর্মীরা আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তৃণমুল নেতা কর্মীদের সমর্থনেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দলীয় মনোনয়ন চাইব।

মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি উপহার দেব। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া বলেন, এই আসনের উন্নয়নে আমার অবদান রয়েছে। আমি জনগনের জন্য কাজ করেছি। জানগন আমাকে ভালবেসে উনানের পাশে স্থান দিয়েছে। এখনো আমাকে জনগন ক্ষমতায় দেখতে চায়। আর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমি আরো দ্বিগুণ উন্নয়ন করবো। আমি ক্ষমতায় থাকাবস্থায় জনগনের ভালবাসায় সুনামগঞ্জ থেকে বিশ্বম্ভরপুর সড়কের কাজ সমাপ্ত করেছি। তাই জনগন আমাকে এখনো ভালবাসে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ