আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেট-১ : রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

  • আপডেট টাইম : নভেম্বর ৪, ২০১৮ ১:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট-১ আসনে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। দেশের ‘সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ’ আসন হিসেবে বিবেচিত এই আসন জোট-মহাজোটের নতুন হিসেবে পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। দেশের সকল বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও চলছিল এমন হিসাব-নিকাশ। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। মাঠে নেমেছেন দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ মনসুর। যদিও এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এতদিন আলোচনায় ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সুলতান মনসুর সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন তিনি।

এবার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে নিজেই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন দেশের সবচেয়ে প্রবীণ এই অর্থমন্ত্রী। একাধিকবার তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই আসনে নিজের স্থলাভিষিক্ত করতে জনগণের সামনে নিজের অনুজ সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি একে আবদুল মোমেনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সংসদের শেষ অধিবেশনেও বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেছেন, সংসদে এটাই আমার শেষ বক্তব্য। কিন্তু সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবারো নির্বাচনে অংশ নেবার আশা ব্যক্ত করেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অর্থমন্ত্রীর পর যার নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, তিনি অর্থমন্ত্রীরই ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন। সাবেক এই রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যেই প্রচারণায় বেশ সরব। অংশ নিচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, নির্বাচনী আসনের প্রায় সব এলাকায় প্রচারণামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে তার নামে। অর্থমন্ত্রী কোনো কারণে নির্বাচনে না আসলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তৃণমূল থেকে তার পক্ষেই সমর্থনের পাল্লা ভারী বলে মনে করা হচ্ছে। সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই হওয়ায় তৃণমূলের আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন এ কে মোমেন।

এ ছাড়াও এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ।
এদিকে, দীর্ঘ একযুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন নিয়ে আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

রাজনীতির তারকা ব্যক্তিত্ব, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উত্তরসূরি হতে সিলেট-১ থেকে বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় একমাত্র প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। কয়েক বছর ধরে খন্দকার মালিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মুক্তাদির চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড। প্রথমদিকে এই আসন থেকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পত্নী ডা. জোবাইদা রহমানের নাম শোনা গেলেও তাদের কারোরই এ আসন থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই। দলীয় সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করে বলছে, এখানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরই হচ্ছেন বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।

তবে বিএনপি ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার পর এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে সাবেক এই ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এখন পর্যন্ত নিজে প্রার্থী হবেন বলে কোথাও ঘোষণা দেননি।

তাই সিলেট-১ আসনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকেই সমর্থন দিচ্ছেন জানিয়ে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সালেহ আহমদ খসরু বলেন, এখনো আমাদের নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে নির্বাচনে গেলে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরই হবেন আমাদের দলের একমাত্র প্রার্থী। বিএনপির সব নেতাকর্মীই দলের জন্য কাজ করবেন।

ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করবেন। জোট যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় সেক্ষেত্রে কি করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধার করা, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। এক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের যিনি প্রার্থী হবেন বিএনপি তাকে জয়ী করতেই কাজ করবে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়লেও সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলোর কোনো প্রার্থীর নাম প্রচারণায় আসেনি। এ ছাড়া প্রচার-প্রচারণার বাইরেও সিলেটের রাজনীতিতে নির্বাচনের মূল লড়াইটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরেই।

তবে বর্তমানে বিরোধী দলের ভুমিকায় থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে পারেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গত বছরে সিলেট সফরে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠের জনসভায় এরশাদ নিজে এখান থেকে নির্বাচনের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি সিলেটকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ