আজ শুক্রবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে পানিবন্দি দুই লক্ষাধিক মানুষ

  • আপডেট টাইম : June 23, 2017 6:00 AM

বিশেষ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দুই উপজেলার বন্যার্ত মানুষদের মধ্যে এখন হাহাকার চলছে। উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলো সরকারি ও বেসরকারি কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পানিবন্দি লোকজনের অভিযোগ, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা শুধু বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন আর ফটোশেসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন এবং ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কয়েক শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনসহ অন্যের বাড়িতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু আশ্রয়ের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তৃতীয় দফায় বন্যা আক্রান্ত হয়ে রমজানে অনাহার অর্ধাহারে দিন-রাত কাটছে দুই উপজেলার বন্যা কবলিত অনেক পরিবারের। পানিবন্দি অসহায় পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় এবং ত্রাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও দুর্ভোগে থাকা জনসাধারণ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইকে ভাঙন, টানা বৃষ্টিপাত, কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধির কারণে দুটি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন বন্যা প্লাবিত হয়। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানুষের বসতঘর, রাস্তাঘাট মুহূর্তেই তলিয়ে যায় এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউপির লামা তাজপুর, পূর্ব তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর, কালনিরচর, সম্মানপুর, সুন্দিখলা, হলিমপুর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির আদমপুর, আলীপুর, মঙ্গলপুর, কোণাপাড়া, জাকিরপুর, গলমু কাপন (একাংশ), উমরপুর ইউপির আবদুল্লাপুর, মজলিসপুর, মাধবপুর, চরসিকন্দরপুর, ভরাউট, মান্দারুকা, হামতনপুর (একাংশ) বুরুঙ্গা ইউনিয়নের আনোয়ারপুর, পিয়ারাপুর, নিজ বুরুঙ্গা, হাজীপুর, গোয়ালাবাজার ইউপির ভাগলপুর, মোতিয়ারগাঁও, গাভুরটিকি, মোবারাকপুর, জায়ফরপুর, জহিরপুরসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে পানিবন্দি অবস্থায়।

কালনিরচর গ্রামের ৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় শাহ্ জালাল (র.) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ২য় তলায়। বিদ্যালয়ের নিচতলাও জলমগ্ন। বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া সুজন মিয়া বলেন, ঘরে পানি থাকায় গত ৩ দিন ধরে এখানে আশ্রিত। খাবার অভাবে পরিবারের লোকজনদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি।

কালনীরচর গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক আহছান উল্লা বলেন, বসত ঘরে পানি থাকায় অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটছে।

আবদুল্লাপুরের আজিজুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে পানির মধ্যেই দিন-রাত কাটাচ্ছি।

ওসমানীনগরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনির উদ্দিন বলেন, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারাই, মোবারকপুর, মুতিয়ারগাঁও, ভাগলপুরসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম বন্যায় আক্রান্ত হয়ে বাসিন্দারা কষ্টে জীবনযাপন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা না দিলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেবে।

এক সপ্তাহ ধরে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় পানি উঠার কারণে দাফতরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও আবাসিক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

নদী পারের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এই সড়কে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। নির্মাণাধীন বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের উপর দিয়েও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পানির তোড়ে এই সড়কের বালাগঞ্জ থেকে রাধাকোনা অংশের দুটি স্থানে ৩০-৪০ ফুট করে ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সড়কের অন্যান্য অংশে এভাবে ভেঙে গিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ বলেন, পানিবন্দি হয়ে লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যার্তদের জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ এসেছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া বলেন, হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

 

 

(আজকের সিলেট/২৩ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ