আজ সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজার-৪: ঐক্যবদ্ধ প্রচারণায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি

  • আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২০, ২০১৮ ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মধ্যে এতদিন দলীয় ক্ষোভ ও কোন্দল ছিল। তবে নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল ও ক্ষোভ মিটিয়ে দলের পক্ষে আ. লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দলীয় কোন্দল বিরাজমান। আলাদা আলাদা কমিটিও ছিল। এখন তা নিরসন হয়ে দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ছয়জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান বেশি আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদই দলীয় মনোনয়ন পান। মনোনয়ন পাওয়ার পর অবশেষে এ বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ৫ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়। সভায় দলীয় প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ তাঁর বক্তব্যে সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের ও দলীয় প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন সবাই মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভের বিষয়টি ভুলে দলীয় প্রতীক নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐকমত্য পোষণ করেন। ওই সভার পর কমলগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. মোসাদ্দেক আহমদ মানিককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনোনয়নবি ত উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলকে।

মনোনয়ন বঞ্চিত কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান বলেন, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে দলের কোন নেতাকর্মী যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নৌকার পক্ষে তাঁরা জোর প্রচারণা শুরু করেছেন।

এদিকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিএনপির গৃহবিবাদ দীর্ঘদিনের। কয়েক বছর ধরে এখানে নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এমনকি কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিএনপির আলাদা আলাদা কমিটি ছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও আলম পারভেজ সোহেলকে সম্পাদক করে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একটি কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া আবু ইব্রাহিম জমশেদকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির কমিটি আছে। অন্যদিকে এখানে বিএনপির প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সমর্থিত দুটি কমিটিও আছে। উপজেলা কমিটিতে দুরুদ আলী সভাপতি ও আবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে সোয়েব আহমদ সভাপতি ও তোফাজ্জল হোসেন সাধারণ সম্পাদক। আর শ্রীমঙ্গলে হাজী মুজিব বিরোধী কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। পৌর কমিটিতে মোছাব্বির আলী সভাপতি ও শামীম আহমদ সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে হাজী মুজিব সমর্থিত উপজেলা কমিটিতে আতাউর রহমান সভাপতি ও ইয়াকুব আলী সাধারণ সম্পাদক। এই পক্ষের পৌর কমিটিতে নুরুল আলম সিদ্দিকী সভাপতি ও তাজ উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক।

দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর হিসেবে এসেছে বিএনপির জন্য। মৌলভীবাজার-৪ আসনে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ওই বিরোধিতা থেকে সরে এসেছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হাজী মুজিব বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় এখন দুই উপজেলার সব নেতা-কর্মীই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

গত ১০ ডিসেম্বর আতাউর রহমান ও ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির অংশটি সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধ মিটিয়ে দলীয় প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করার ঘোষণা দেয়। এরপর ১৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ওয়ালী সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক সদও উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে কমলগঞ্জে বিএনপির উভয় পক্ষের সমঝোতা বৈঠক হয়।

আওয়ামীলীগ এর মধ্যে বিরোধ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচার প্রচারণা করে যাচ্ছেন। উভয় দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদী।

আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসাবে খ্যাত এই আসনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে মোট তিন লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ ভোটারের মধ্যে ৬০ হাজার সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক। পুলিশের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলীয় সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এ আসনে এবারও নৌকার পালে হাওয়া লাগবে। এই আসনের মহাজোট প্রার্থী সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ বিগত ৯১ সাল থেকে টানা পাঁচবার এমপি হয়েছেন। বিশেষ করে তিনি বিগত ১০ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এই আসনটি আওয়ামীলীগ আবারো ধরে রাখতে এবং বিএনপি এই আসনটি পূণরুদ্ধার করতে মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা যেকোন মূল্যে এ আসনটি উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ