আজ শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

হবিগঞ্জে টার্কি পালনে স্বাবলম্বী সোহেল

  • আপডেট টাইম : January 5, 2019 9:38 AM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : টার্কি মুরগি পালন করে সফলতা পেয়েছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার পশ্চিম বু্ল্লা গ্রামের সোহেল রানা। বছর তিনেক আগে শখের বসে ঢাকা থেকে দুই জোড়া টার্কি নিয়ে আসেন তিনি। এখন তার খামারে প্রায় একশ’র বেশি টার্কি মুরগি রয়েছে। টার্কি মুরগি ও বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় সোহেল রানা’র মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

তার টার্কি মুরগির খামার এবং সাফল্য দেখে লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক বেকার যুবক টার্কি পালনে ঝুকছেন।

টার্কির বয়স ৫-৬ মাস যেতে না যেতেই ডিম দিতে শুরু করে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। চারটি টার্কি মুরগি থেকে এখন প্রায় একশ’র বেশি টার্কি মুরগি রয়েছে তার খামারে।খামারের নাম দিয়েছেন এস আর টার্কি ফার্ম। টার্কির মাংস সুস্বাদু হওয়ায় তার খামার থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষরা টার্কি মুরগী কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি টার্কি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। একেকটা টার্কি ওজনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি। তার খামারে বার্বন রেড, আমেরিকান জাত রয়েল পাল্ম, ব্লাক ব্রেষ্টেড, হোয়াইট ব্রড ব্রেষ্টেড, ব্রঞ্জ ব্রেষ্টেড ও ইংল্যান্ডের নোর্পফ্লক হাইব্রিড টার্কি এখানে পাওয়া যায়।

এছাড়া টার্কির পাশাপাশি এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় চার’শ থেক ছয়শ টাকায়। টার্কি ৬ মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করে। এরা ঠাণ্ডা-গরম সব সহ্য করতে পারে। একটি টার্কি মুরগি বছরে প্রায় ১২০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে টার্কি আবার ডিম দিতে শুরু করে। টার্কি মুরগি দানাদার খাবারের চেয়ে সাধারণ পোকা-মাকড়, প্রাকৃতিক খাবার কচুরিপানা, কলমি শাক, বাঁধাকপি, ঘাস ও লেয়ার বেশি পছন্দ করে।

টার্কি মুরগী খামার ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, এক মাস বয়সী টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয় প্রতি জোড়া ১২শ থেকে ১৫শ টাকা। তার খামার থেকে প্রতিদিন অন্য খামারিরাও বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মাসে তার খামার থেকে বিশ থেকে ৩০ হাজার টাকার টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে এই খামারের পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে দেশের অবহেলিত যুবকরা সফল হবে বলে আমি মনে করি। টার্কি চাষের জন্য আমি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করছি। টার্কি মুরগীর মাংস সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিদিন এই খামার থেকে অনেক মানুষ টার্কি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

লাভজনক হওয়ায় লাখাই হবিগঞ্জসহ সাড়া দেশে দিন দিন টার্কি মুরগির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি সব সময়ই ছোট ছোট টার্কি খামারিদের ভিবিন্ন ভাবে সহযোগীতা করে আসছি। সরকারিভাবে একটু সুযোগ সুবিধা পেলে লাখাই হবিগঞ্জসহ দেশের অনেক বেকার যুবক টার্কি খামার গড়ে তুলতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ