আজ শুক্রবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

সুনামগঞ্জে এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি ছাত্রলীগের কমিটি!

  • আপডেট টাইম : February 13, 2019 8:00 AM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ১ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের আগামী এপ্রিল মাসে। ১ বছর মেয়াদি অনুমোদিত জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মতানৈক্যের কারণে সাংগঠনিক ভাবে এখনো পর্যন্ত সুসংগঠিত হয়ে উঠতে পারেনি জেলা ছাত্রলীগ। একই কারণে আজোবধি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করা সম্ভব হয়নি জেলা ছাত্রলীগের। ফলে পদ প্রত্যাশী অনেকেই জেলা কমিটিতে আসতে না পারায় হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে জেলা ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ফজলে রাব্বী স্মরণ ও সাধারণ সম্পাদক পদে রফিক আহমদ চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে একপর্যায়ে ২০১৫ সালে ওই কমিটি স্থগিত করা হয়। পরে ২০১৬ সালে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর সম্মেলনের মাধ্যমে তাদেরকে জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

পরে প্রায় ৯ মাস পর ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ জেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ-উল-আলমকে আহ্বায়ক এবং নাজমুল হক কিরণ, দিপংকর কান্তি দে, জিসান এনায়েত রেজা, সোহেল রানা, মাসকাওয়াত জামান ইন্তি, আশিকুর রহমান রিপনকে যুগ্ম আহবায়ক, ফয়সাল আহমেদ, অভিজিৎ চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম ও ইশতিয়াক আলম পিয়ালকে সদস্য করে তিনমাসের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

১১ সদস্যের ওই নতুন আহবায়ক কমিটিও কাটিয়ে উঠতে পারেনি নিজেদের মধ্যকার গ্রুপিং কোন্দল। বরং ওই আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ অভ্যন্তরীণ ভাবে চার বলয়ে বিভক্ত ছিলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গতবছর ২০ এপ্রিল ২০১৮ তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের উপস্থিতিতে আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে টানটান উত্তেজনার মধ্যে কমিটি ঘোষণা ছাড়াই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের চার দিনের মাথায় ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ঢাকা থেকে ১ বছরের জন্য ৩০ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।

দীপঙ্কর কান্তি দে সভাপতি ও আশিকুর রহমান রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১ বছরের মেয়াদের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে লিখন আহমদ, জিসান এনায়েত রেজা, ওমর ফারুক সিদ্দিকী মামুন, আবুল হাসনাত মো.কাউসার, আবু সাইদ আপন, ওয়াসীম মাহমুদ, গৌতম তালুকদার দীপ, কাউসার আহমদ, আশরাফুল ইসলাম, তৌফিক ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান লিমন, তৌহিদ ইনসাফ সারের ওয়াসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে হারুন অর রশিদ হারুন, মাসকাওয়াত জামান ইন্তি, জগৎ জোতিৎ রায় জয়, তৈয়বুর রহমান, মো.রাহাত আহমদ, তানভীর আলম পিয়াল, মাহবুবুল আলম সামি, মো.ফয়েজ উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জুনায়েদ আহমদ, ফয়সাল আহমদ, শাহিন মিয়া, আসেফ বখত রাদ, মাহমুদুল হাসান তারেক, সৃজন দেবনাথ, ইশতিয়াক আলম পিয়াল, কে এম তানভির রশিদ ইমনকে স্থান দেওয়া হয়।

যোগাযোগ করা হলে এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রক্রিয়া আমরা শুরু করছি, খুব শিঘ্রই কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলাপ করে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করব।’

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রিপন বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীন কোন্দল নেই। সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক আমরা সবাই এক সাথে কাজ করছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা কাজ শুরু করছি। ইনশাআল্লাহ আমরা মাস দুয়েকের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে পারবো।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ