আজ বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

পানি সংকট দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা

  • আপডেট টাইম : February 17, 2019 9:19 AM

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী চক্র মৎস্য আইনের নীতিমাল কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাসকা জালসুখা বিল সেচে (তলা শুকিয়ে) মাছ ধরার কারনে হাওরের শত-শত একর বোরো ফসল পানির অভাবে নষ্ট হচ্ছে। এসব কৃষি জমিতে পানি সেচ সংকটের কারনে চলতি বোরো ধানের আবাদকৃত চারা নষ্ট হচ্ছে। এ কারনে কৃষকদের মনে দুশ্চিতা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের সামনের হাওরে বাসকা বিলে পাওয়ার পাম্প চালিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম গংরা বিলের তলা শুকিয়ে মাছ ধরছেন। খাস কালেকশনে জলমহালটি লীজ এনে ভাসমান অবস্থায় মৎস্য আহরণের কথা থাকলেও স্থানীয় কিছু লুটেরা চক্রকে সঙ্গী করে পেশি শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে জল মহাল সেচ করছেন বলে জানা কৃষকরা।

মৎস্য আইন অমান্য করে এই অ লের শত-শত কৃষকের রোপনকৃত বোরো জমিতে সেচের ব্যবস্থা নষ্ট করে জলমহাল শুকিয়ে মৎস্য আহরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের আহাজারিতে কর্ণপাত না করেই এমন অনেতিক কাজটি করছে বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বিলের পাড়ে অবস্থান নিয়ে বিলটি সেচে মৎস্য আহরণের জন্য বিলের পানি কৃষকের জমিতে না দিয়ে অন্যত্র ফেলে দিচ্ছে।

কৃষক হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমরা তো কৃষক আমরার কথা কেউ শুনেনা। এই বিলটি শুকানোর কারণে আমরার জমিতে পানি দিতে পারতেছিনা। ধানের চারা মইরা যাইতাতে, ধান অইব কিনা আল্লাই জানে। কৃষক আমজদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, বহু ঋন করে ধান ক্ষেত লাগাইছি, পানির কারনে ধানের চাড়া নষ্ট হইতাছে ধান না হইলে ঋন দিমু কেমনে, আমরা কি খাইয়া বাঁচমু, আল্লার কাছে বিচার দেওয়ন ছাড়া আমরার আর জায়গা নাই।

জানা যায় চলতি বছরের বাসকা বিলটি লিজ নেন জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাবেক এই ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম। তিনি গত কয়েকদিন ধরে জলমহালে কয়েকটি পাওয়ার পাম্প দিয়ে নির্ধিধায় পানি সেচে করে বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করছেন। তিনি মেশিন দিয়ে বিলের পানি শুকিয়ে অন্যত্র ফেলে দিলেও পাশে কৃষকদের জমিতে পানি না দিয়ে হাওরের বাহিরে ফেলে দিচ্ছেন। একারণে কৃষকের বোরো ফসল এবার পানি সংকটের ধানের চারা শুকিয়ে নুয্য হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জলমহাল সেচের বিসটি জানানোর পরেও তিনি না দেখার ভান করে রয়েছেন বলে জানান কৃষকরা।

বাসকা বিলের ইজারাদার মোঃ কামরুল ইসলামের বলেন, বিলটি খননের উদ্দেশ্যেই মূলত মেশিন লাগিয়ে জলমহালটি শুকানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কি খননের জন্য বিল শুকাতে দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে চোপ থাকেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্ত অমিত পদ্ধতির মোবাই ফোনে কয়েকবার ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়া য়ায়।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান জানান, কেহ বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণের চেষ্টা করলে একদিকে যেমন কৃষকদের সর্বনাশ হবে, অন্যদিকে মৎস্য আইন অমান্যকারী হিসেবে তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ