আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

দিরাই-শাল্লায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দুই দলের প্রার্থীরা

  • আপডেট টাইম : August 23, 2017 5:56 AM

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকলেও সুনামগঞ্জ-২ দিরাই-শাল্লায় বইছে নির্বাচনি হাওয়া। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নতুন মুখেরা দিরাই-শাল্লার গ্রামগ্রামান্তর চষে বেড়াচ্ছেন। দলীয় হাইকমান্ডের নজর কাড়তে ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ, পথসভা ও গণসংযোগসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
মহাজোটের একাধিক নবীন প্রবীণ প্রার্থী থাকলেও বিএনপির রয়েছে একক প্রার্থী।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছাতে শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, তিনি বিএনপি ও সহযোগীসংগঠন ঢেলে সাজাতে দিরাই-শাল্লায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের চির প্রতিদ্বন্দ্বী নিজের হারানো আসন ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। উপর দিকে দিরাই-শাল্লা থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী ড.জয়া সেনগুপ্তা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

উপনির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক তরুণ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে সিলেট আইন কলেজের সাবেক ভিপি, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অতি ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত, সিলেট জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম। তিনি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রয়াণের পর থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার আশায় নিজ পক্ষের জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ত্রাণ বিতরণ, মতবিনিময় ও গণসংযোগসহ ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইবেন যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সামছুল হক চৌধুরী। অপরদিকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী আজহার এবং গণতন্ত্রী পার্টি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গুলজার আহমদ।

যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সামছুল হক চৌধুরী বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে আসছি, প্রবাসে থাকলেও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে দিরাই-শাল্লার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রিয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করি, আমার সকল দিক বিবেচনা করে হাইকমান্ড আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেবে এ আমার বিশ্বাস।

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী আজহার বলেন, দিরাই-শাল্লা এক সময় বাম রাজনীতির ঘাঁটি ছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, নাছির উদ্দিন চৌধুরীসহ এই এলাকার অনেক নেতাই ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী দিরাই-শাল্লার মানুষ মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে রায় দেবেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন, দিরাই-শাল্লা হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। আমাদের নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে দিরাই-শাল্লায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আমাদের দলের একক প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সাথে বয়সের ভারে নতজানু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী জয়া সেনগুপ্তার নির্বাচন জমে উঠবে না। আগে নির্বাচন জমে উঠত সুরঞ্জিত-নাছির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মাঝে, এখন তো মাঠ খালি।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম বলেন, আমি শহরের রাজনীতির দায়িত্বশীল পদে থাকলেও হাওরপারের সন্তান হিসেবে দিরাই-শাল্লার মানুষের সাথে রয়েছে আমার আত্মার সম্পর্ক। জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাত ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে দিরাই-শাল্লা চষে বেড়িয়েছি, প্রিয় নেতার মৃত্যুর পর নেতার রেখে যাওয়ায় অসমাপ্ত কাজ করে যাওয়ার লক্ষ্যে গত উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম, অবশেষে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করি। হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী শহিদ তালেবের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম আরো বলেন, আমার বড় ভাই হারানোর বেদনা বুকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে আসছি, দলের দুঃসময়েও আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হইনি। দিরাই-শাল্লায় আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়তে কাজ করে গেছি। আমি আশাবাদী, দলীয় মনোনয়ন পাব।

দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা বলেন, দিরাই-শাল্লার মানুষ তাদের প্রিয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বার বার এমপি বানিয়েছেন, আমাকেও তাঁরা গত উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন। আমি যতদিন বেঁচে থাকি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মৃতি ধরে রাখতে কাজ করে যাব।

 

(আজকের সিলেট/২৩ আগষ্ট/ডি/এমকে/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ