আজ মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

চার বছরেও চালু হয়নি ট্রমা সেন্টার, রোগীদের বিড়ম্বনা

  • আপডেট টাইম : মার্চ ১, ২০১৯ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বাহুবলে সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ‘ট্রমা সেন্টার ভবন’ নিয়ে চলছে ঠেলাঠেলি। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে স্থানীয় গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে এ ঠেলাঠেলির কারণে ভবনটির ভাগ্য এখন অনিশ্চিত-অন্ধকারে নিমজ্জিত।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা। এ অবস্থায় একদিকে অযত্ন-অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে কোটি-কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। এদিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুর্ঘটনায় আহত জনগণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১০ সালে ‘ফিজিক্যাল ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে সরকার দেশের ৬টি মহাসড়কের পাশে ১০ শয্যার ট্রমা সেন্টার নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙ্গা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান।

এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় একটি ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। পরে সরবরাহ করা হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র।

২০১৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে অজ্ঞাত কারণে ভবনটি হস্তান্তর হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের পূর্বের মতই বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে ঢাকা অথবা সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে জেলার সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাহুবল উপজেলার ফদ্রখলা গ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুর রহমান জানান, ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে আমরা সহজেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারতাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অবহেলায় আমরা সেটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। পাশাপাশি অযত্ন-অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে কোটি-কোটি টাকার সরকারি সম্পদ।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সিভিল সার্জন। দু’জনই দায় চাপাচ্ছেন ‘একে অন্যের উপর’।

হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ ভবনটি গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অফিসিয়ালি চাইলে এখনই হস্তান্তর করতে প্রস্তুত তিনি।

এদিকে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, আমি কি তালা ভেঙে ভবনে ঢুকব? তাদের জটিলতার কারণে তারা (গণপূর্ত) ভবনটি হস্তান্তর করতে পারছেন না। আমরা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত’।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহনেওয়াজ মিল্লাত বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যে কোনো দিন এর উদ্বোধন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ...