আজ বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

চিকিৎসক নেই, নার্সই চিকিৎসক

  • আপডেট টাইম : March 3, 2019 7:53 AM

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে যথাযথভাবে হাজির থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া নির্দেশ দিলেও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীর দূর্ভোগ এখন চরমে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন চিকিৎসকের বদলে সেবিকারা অসুস্থদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের এমন অনুপস্থিতিতে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কমলগঞ্জ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টায়ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. তারানা জেরিন কর্মস্থলে আসেননি। তার রুমে কর্মরত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শ্যামল কুমার সিংহ কানে হেডফোন লাগিয়ে কম্পিউটারে ভিডিও গান দেখছেন এবং তাকে তার ডিউটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কথার কোন উত্তর দেন নি। কিন্তু বাইরে রোগীরা অপেক্ষমান। তার কাছে ডাক্তার কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ডাক্তারের খবর আমি জানি না অফিসে যোগাযোগ করেন। তাছাড়া তিনি ডেন্টাল সার্জনের রুমে বসে পান-সিগারেটও খাচ্ছেন।

জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা), ডা. এবিএম সাজেদুল কবির (আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার), মেডিক্যাল অফিসার ডা. মানস কান্তি সিনহা, ডা. মুন্না সিনহা, ডা. শওকত আলী কমর্রত আছেন।

বেশিরভাগ ডাক্তারগণ ছুটিতে কিংবা প্রাইভেট চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। লক্ষ্য করা গেছে, বেশিরভাগ ডাক্তারেরই অনুপস্থিতি। উল্লেখ্য যে, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন নার্সগণ। সাধারণ রোগীরা সীমাহীন কষ্টে ভোগছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপই একমাত্র সমাধানের পথ।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এই উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৫০ বছর পর ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়েছে। ৫০ শয্যায় উন্নিত করলেও পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। ডি.এম.এফ (উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার) দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে ফার্মাসিষ্টের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র মানুষ।

সার্বিক বিষয় নিয়ে আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইয়াহইয়া জানান, অবকাঠামো ও আবাসিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরন সরবরাহ কার্যক্রম চলমান, ডাক্তার স্বল্পতা বিদ্যমান। ২৪ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন কর্মরত রয়েছেন।

শূণ্যপদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এক্স-রে মেশিনটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। নতুন এক্সরে মেশিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। শীঘ্রই পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান। নিরাপদ ডেলিভারী সংখ্যা সন্তোষজনক, আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২০০-৩০০ রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে সরকার নির্ধারিত সীমিত সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা হয়। চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ২৫টি কমিনিউটি ক্লিনিক ও ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবার স্বার্থে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার সংকটসহ সকল প্রকার সমস্যা সমাধান করা অতীব জরুরী।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ