আজ বুধবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

জামিন পেলেন বিএনপি নেতা গউছ

  • আপডেট টাইম : March 3, 2019 10:12 PM

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জামিনে কারামুক্ত হলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জি কে গউছ। একই সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরো ১৩ নেতাকর্মী কারামুক্ত হন।

রোববার দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হবিগঞ্জের বিপুল সংখ্যক মানুষ গউছকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন। পরে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা জি কে গউছকে তার বাসভবনে নিয়ে যান।

এছাড়াও এই ৪টি মামলায় কারামুক্ত হয়েছেন জি কে গউছের ছোট ভাই জি কে গাফফার, বিএনপি নেতা ইউপি মেম্বার ছামিউন বাছিত, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি কুহিনুর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি জহিরুল হক শরীফ, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন, জেলা ছাত্রদল নেতা গোলাম মাহবুব, জেলা যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাবুল, এনামুল হক এনাম, আফিল উদ্দিন মেম্বার, সমুন, বাবুল মিয়াসহ ১৩ নেতাকর্মী।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হবিগঞ্জ পৌরসভার টানা ৩ বারের নির্বাচিত মেয়র এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র দখল, হামলা ও মারপিটের অভিযোগে আওয়ামী লীগের লোকজন বাদী হয়ে জি কে গউছকে প্রধান আসামি করে ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই ৪টি মামলায় হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জি কে গউছসহ ১৪ নেতাকর্মীর জামিন না-মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

এর আগে এই ৪টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনে ছিলেন জি কে গউছসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন হবিগঞ্জ শহরের জে কে এন্ড এইচকে হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় গত ১ জানুয়ারী একটি মামলা করা হয়। মোহনপুর এলাকার মৃত রইছ উল্লার পুত্র ও আওয়ামী লীগ কর্মী আশরাফ আহমেদ হারুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় আসামী করা হয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও ৩০ নেতাকর্মীকে।

একই দিন শহরের যশের আব্দা এলাকায় সওদাগর কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কাজে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বাঁধা প্রদান ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মৃত মঞ্জব আলীর পুত্র জুনাব আলী বাদী হয়ে সদর থানায় গত ২ জানুয়ারী আরও একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় ১০১ জনের নাম উলে­খ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

শহরতলীর তেতৈয়া ভোট কেন্দ্রে গাড়ি ভাংচুর ও মারপিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে তেতৈয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র সাবেক মেম্বার তৈয়ব আলী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় ১০৪ জনের নাম উলে­খ করে অজ্ঞাত ৩শ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

শহরের স্টাফ কোয়াটার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে আব্দুর রহিম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব জি কে গউছকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আরও শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ