আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

নেই নির্বাচনী আমেজ, চলছে দায়সারা প্রচার

  • আপডেট টাইম : March 15, 2019 10:02 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : আর মাত্র ক’দিন পর পর সিলেটের ১২টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসে উত্তাপ তত বাড়ে। বাড়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ, চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে তার ব্যতিক্রম এবারের সিলেটের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দিনঘন ঘনিয়ে এলেও নির্বাচনী আমেজ নেই, প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রমও চলছে অনেকটা দায়সারা। সিলেটের ১২ উপজেলাতেই নিরুত্তাপহীন নির্বাচনী আমেজ।

নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ না করা ও আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণই নির্বাচনী আমেজকে ফিকে করেছে এমনটা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মধ্যে এই দুই কারণেই নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ নেই। এছাড়া যোগ্য প্রার্থীকে মোনানয় না দেওয়ার অভিযোগতো রয়েছেই।

সরেজমিন সিলেট সদর উপজেলার বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, কবে নির্বাচন এই তথ্যই অনেকে জানেন না। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারার শঙ্কাসহ নানা কারণে এবার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তাদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই।

নির্বাচন নিয়ে ভোটাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রার্থীরাও। কিপরিমাণ ভোটার ভোট কেন্দ্রে হাজির হবেন এই নিয়েও ভাবনায় পড়তে হচ্ছে প্রার্থীদের। প্রার্থীরা বলছেন ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়াসহ যোগ্য প্রার্থীকে প্রতীক না দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শিবেরবাজার এলাকার ভোটার ব্যবসায়ী রুহেল মিয়া বলেন, ‘ভোটের কোনো উত্তাপ নেই এলাকায়। প্রার্থীদেরও তেমন কোনো সাড়া শব্দ নেই। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ভোটারও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ভোট নিয়ে এখন আর কিছু ভাবছি না।’

সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আশফাক আহমদ বলেন, ‘আমরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি। তবে আমার মনে হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ হারাচ্ছেন।’

গোয়াইনঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা শাহ আলম স্বপন বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় এই নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ নেই। তাই এখন নিজেদের জন্য নিজেরাই ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি।’

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন ৫৯ চেয়ারম্যান প্রার্থী। এসব প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১২ জন, মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টির চারজন, ইসলামী ঐক্যজোটের (আইওজে) প্রার্থী ছয়জন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশের (ন্যাপ-ভাসানী) এক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যান পদে নিজেদের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৩৬ জন। সিলেট জেলার ১২ উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৩টি পদে ২০১ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

সিলেট জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সন্দীপ কুমার সিংহ বলেন, ‘ভোটার কেন নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন এ ব্যাপারটা বলা খুবই ডিফিকাল্ট। আমরা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন থেকে শুরু করে সবকিছু তদারকি করছি। আশা করছি নির্বাচনের দিন ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ