আজ বুধবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

সিলেটে বেড়েছে হত্যাকান্ড

  • আপডেট টাইম : March 20, 2019 1:49 PM

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেটের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড। পার পেয়ে যাচ্ছে হত্যাকারীরা। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামিল হয়েছে কিশোররাও। রাজনৈতিক ছত্রছাতায় বেড়ে ওঠা কিশোররা গ্যাং তৈরি করে ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ দ্বন্দ নিয়ে এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় জড়াচ্ছে বিবাদ। রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’দের আশ্রয় নিয়ে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নতুন করে আবারও অপরাধে সংগঠিত হচ্ছে কিশোররা।

নয়া বছর ২০১৯ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের ১৫ তারিখ পার্যন্ত সিলেট নগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আটটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

নগরীসহ সিলেট জেলায় সম্প্রতি সময়ে বেড়েছে হত্যাকান্ডের ঘটনা। ঘটছে চুরি, ডাকাতি এবং অসংখ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা। এভাবে সিলেটে একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

এসব হত্যাকাণ্ড একই কায়দায় বেশীরভাগই ঘটছে। সবকটি হত্যাকাণ্ডে লক্ষ্য করা গেছে, প্রথমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পরিচিতজনরা। এসব ঘটনা ঘটলেও জেলা ও মহানগর পুলিশ বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। জোরদার হচ্ছে না পুলিশি টহল। যদিও মহানগর পুলিশ থেকে বলা হয়েছে- গোয়েন্দা পুলিশের ষোলটি দল কাজ করছে নগরে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের কোনো সু-নির্দিষ্ট কারণ বের করতে পারেনি পুলিশ, উদ্যোগী হয়নি বিশেষ কোনো অভিযানে।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় শুক্রবার মোস্তাফিজুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোর খুন হয়েছেন। সে ওসমানীনগর উপজেলার মান্দারুকা গ্রামের আবদুল মছব্বিরের ছেলে। এঘটনায় একজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

এরআগে ১৩ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের দরাকুল এলাকায় বদরুল আমিন (২০) নামের এক তরুণের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।

নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় ১২ মার্চ রাতে ছাব্বির আহমদ (২২) নামের আরেক তরুণ ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায়ও ছাব্বিরের বন্ধু ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ দু’জন কলেজছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২৩ ফেব্রুয়ারী সাকরপুর গ্রামে সাবুল নম (২৪) নামের এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারী রাতে সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয় সাহেদ আহমদ (১৬) নামক স্কুলছাত্র।

নগরের মদিনা মার্কেট এলাকায় ৩১ জানুয়ারি সাহাব উদ্দিন (২৪) নামে এক ফলবিক্রেতা খুন হন। মৃত সাহাব শ্রীরামপুর থানা সুলতানপুরের মোগলাবাজার এলাকার মৃত তৈয়ব আলী ছেলে।

জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ১৭ জানুয়ারি টিকাডহর গ্রামে আফতাব মিয়া নামে এক যুবক খুন হন। নিহত আফতাব ওই গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে।

১৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুর চকেরবাজার এলাকায় সেবুল মিয়া ওরফে রাজা (৩৫) এক রিকশাচালক খুন হন। সেবুল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের করম আলীর ছেলে। তিনি দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই এলাকায় রিকশার গ্যারেজে থাকতেন।

যোগাযোগ করা হলে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ এইসব হত্যাকান্ডগুলো রাজনৈতিক সহিংসতায় ঘটছে না। সকল হত্যাই পারিবারিক। পুলিশ সকল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছে।’

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন , ‘সব ধরনের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে। ডিবি পুলিশের ১৬টি টিম এই অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ