আজ বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মুরু হলো ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা

  • আপডেট টাইম : March 17, 2019 8:33 PM

সাত্তার আজাদ (অতিথি প্রতিবেদক)

সিলেট : বসন্তের সৌরভ ছড়ানো বাতাস বইছে। চৈত্রের কড়া রোদ গায়ে মেখে উৎফুল্ল শিশু-কিশোরদের দিনভর চলে উচ্ছাসমুখর পদচারণা। এতে শামিল হন তরুণ-যুবক-বয়স্করাও। সবাই ব্যস্ত ঘুড়ি কেনায়। লাল-নীল-সাদা হরেক রঙের ঘুড়ি। ছোট-মাঝারি-বড় সাইজের ঘুড়ি কিনে সবাই মনের আনন্দে আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রায় ৩০০ বছর ধরেই এমন আনন্দের সাক্ষী হয়ে আসে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানুষ।

বিয়ানীবাজার উপজেলার সুপাতলা গ্রামে বাসুদেব বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে চৈত্রের প্রতি রোববার ঘটা করে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা বসে। এ উপলক্ষে দিনভর চলে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। সে আয়োজনে কেবল ওই গ্রাম কিংবা উপজেলার মানুষ নয়, দূর-দূরান্তের মানুষও উপস্থিত হয়।

সিলেটে মেলাকে স্থানীয়ভাবে ‘বান্নি’ বা ‘রোববারি’ বলা হয়। রোববারে মেলা বসে বলে একে রোববান্নিও বলা হয়ে থাকে। একই আদলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ শ্রী চৈতন্য মন্দির প্রাঙ্গণে বসে রোববান্নির মেলা।

রোববান্নি আয়োজনের প্রথম দিন রোববার। তাই শুরুতে মানুষের ভিড়ও লক্ষণীয়। মেলায় রঙিন ঘুড়ি, নাটাই, ঘুড়ি ওড়ানোর সুতা, শিশু-কিশোরদের খেলনা, মাটির জিনিসপত্র, কারুশিল্প, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ নানা ধরনের পসরা বসান ব্যবসায়ীরা। রঙিন কাগজ, বাঁশ আর সুতা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করা হয়। একেকটি ঘুড়ির দাম ৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ঘুড়ি কেনায় বিশেষত শিশু-কিশোরদের আগ্রহই বেশি। কাগজের তৈরি ঘুড়ি বানাতে বাঁশের হালকা বেতি, আঠা, কাপড়, সুতোর প্রয়োজন হয়। আর পলিথিনের ঘুড়ি আঠার স্থলে সুতো দিয়ে সেলাই করলেই চলে।

ঘুড়ি বিক্রেতারা জানান, পলিথিনের তৈরি প্রতি পিস ঘুড়ি ৮০-১২০ টাকা, কাগজের তৈরি ৪০-৫০ টাকা, পলিথিনের তৈরি প্রতি পিস ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিয়ানীবাজারে মেলার পাশেই ওসমানী স্টেডিয়াম। এই বিরাট মাঠজুড়ে চছে ঘুড়ি ওড়ানো খেলা। অসংখ্য মানুষ ঘুড়ি ওড়ানোর নাটাই-সুতো নিয়ে উপস্থিত হল সেখানে। সব ঘুড়ি ওড়লে রঙে রঙে বর্ণিল হয়ে যায় আকাশ।

নানা ধরণের মোয়া-মুড়ি, বাঁশি, বেত বাঁশ ও মৃৎ শিল্প, নারীদের সাজগোগের চুড়ি গহনাসহ নানা উপকরণ আর খইয়ের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। বিশেষ করে খেলনাপাতির পসরা বেশি থাকে। ফলমূল এমনকি শুঁটকিও বিক্রি হয় মেলায়।

আগে সিলেটের প্রতিবেশি ভারতের আসাম মেঘালয় ত্রিপুরা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী বা বৈষম মতবাদের অনুসারীরা দল মেলায় আসতেন। এখনো আসেন তবে সংখ্যায় কম।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ