আজ বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

সিলেটে চলছে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

  • আপডেট টাইম : March 18, 2019 8:55 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও চলছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এ যাত্রায় জেলার ১২টি উপজেলায় নিজেদের প্রতিনিধি ঠিক করবেন সাধারণ মানুষ। অন্য যেকোন সময়ের মত নির্বাচনে উত্তাপ তেমন লক্ষ্যনীয় না হলেও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসনকে চার স্তরের নিরাপত্তায় ঢেলে সাজানো হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১২টি উপজেলায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। যা চলবে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে ১২টি উপজেলায় র‌্যাব-বিজিবি ছাড়াও পুলিশ ও আনসারের প্রায় ১৪ সহস্র ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) দুই ভাগে বিভক্ত করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতি উপজেলায় একজন করে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন রয়েছেন।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাহবুবুল আলম বলেন, জেলার পুলিশের অধীনে ১০ টি উপজেলায় চার স্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন ২ হাজার ২০০ পুলিশ ও ৭ হাজার ৭৫৪ জন আনসার, ৪২৭ জন বিজিবি ও র‌্যাবের ১৩০ সদস্য।

তিনি বলেন, ১০ উপজেলার ৬৪৭ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫২টি গুরুত্বপূর্ণ, ১৯৬টি সাধারণ কেন্দ্র নির্ধারণ করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ২ জন করে পুলিশের পাশাপাশি একডজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। এরমধ্যে প্রতি ইউনিয়নে একটা করে মোবাইল পার্টি, প্রতি থানায় একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি করে ট্রাইকিং পার্টি ছাড়াও জেলা সদরে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে ২টি করে চারটি স্ট্রাইকিং ও মোবাইল পার্টি থাকবে।

মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এসএমপির ২ উপজেলায় দেড় হাজার পুলিশ ও ২ সহস্রাধিক আনসার সদস্য নির্বাচনী মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে নির্বাচনী মাঠে ২১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৪৪টি মোবাইল টিম থাকবে।

তিনি বলেন, দুই উপজেলার ১৬৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। সদর উপজেলার ৯১ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩ ভোট কেন্দ্র এবং দক্ষিণ সুরমায় ৭৮ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬২ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। দুই উপজেলায় ২ জন করে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

এবার জেলার ১২টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান (নারী-পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৭৩ প্রার্থী। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৬, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ৭৬ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১ প্রার্থী ভোটের মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এগুলোর ৭টিতে আওয়ামী লীগ ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১৬ জন। পাঁচটিতে রয়েছেন নৌকার একক প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টির চারজন, বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী ছয়জন এবং ইসলামী ঐক্যজোটসহ (ওআইজে) অন্য স্বতন্ত্র ১৯ জন প্রার্থী।

এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৭১০ জন। এরমধ্যে ১০ লাখ আট হাজার ৯০ জন পুরুষ এবং আট লাখ ৮৫ হাজার ৭১০ জন নারী ভোটার। তাদের আমানত ভোটেই নির্বাচিত হবেন ১২ জন করে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান।

উপজেলায়গুলোতে ৮১৬টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪১৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভোটগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮১৬, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার চার হাজার ৪১৪ জন এবং আট হাজার ৮২৮ জন পুলিং অফিসার।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ