আজ বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং

তিন নৌকাই ‘ডুবল’ প্রতিমন্ত্রী ইমরানের

  • আপডেট টাইম : March 19, 2019 3:34 PM

দিনা রহমান

সিলেট : প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৪ আসন। বিভিন্ন কারনে এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইমারন আহমদ নতুন সরকারের মন্ত্রী সভায়ও স্থান করে নিয়েছেন। দ্বায়িত্ব নিয়েছেন প্রবাসী কল্যণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু সদস্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে নিজের এলাকার তিনটি উপজেলায়ই ডুবেছে নৌকা।

দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন- উপজেলা নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নৌকা দিতে গিয়ে ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা ভোটের মাঠে অপেক্ষাকৃত হেভিওয়েট তাদেরকে বাদ দিয়ে নৌকা দেয়া হয়েছে এমপির একান্ত অনুগতদের। যার কারনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে সতন্ত্র প্রার্থী হন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। আর নির্বাচনে নৌকাকে ডুবিয়ে জয়ও ঘরে তুলে নেন তারা। এনিয়ে তিন উপজেলায় চলছে রসালো সমালোচনা।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলায় ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল আহমদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৯৫ ভোট।

গোয়াইনঘাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩০ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ। এই উপজেলায় পাত্তাই পায়ন নি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া হেলাল। ফারুক আহমদের নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপন পেয়েছেন ২০ হাজর ৫৪২ ভোট।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আনারস প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামীম আহমদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গির আলম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৪৫৭ ভোট।

এই তিন উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- শুধুমাত্র প্রার্থী ঠিক করতে স্বজনপ্রীতির কারনেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। আমাদের দলের নেতারা যদি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী না হতেন তবে এই তিন উপজেলাই অন্যঘরনায় চলে যেত। সিনিয়র নেতাদের এমন কর্মকান্ড দলের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী আজকের সিলেটকে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে অবশ্যই কোন ভুল ছিলনা। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন তা নিশ্চয়ই ভুল করেছেন।

সাবেক এই এমপি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়া যায় তবে দলের মধ্যে তাদের ভালো চোখে দেখা হয়না। সবার উর্দ্দে দল ও দলের সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া, এটি অবশ্যই কর্তব্য।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ