আজ মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

দেশ পেলেও ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই’ পাননি মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ

  • আপডেট টাইম : March 25, 2019 7:10 AM

উপজেলা প্রতিনিধি

গোলাপগঞ্জ : দেশ রক্ষার যুদ্ধে আমি জয়ী হলেও সংসার জীবনে পরাজিত এক সৈনিক। যুদ্ধ করে দেশ পেলেও মাথা গোঁজার ঠাই এখন পাননি বীর। অনেকের দ্বারে দ্বারে জায়গাসহ একটি বসতঘরের জন্য গেলেও কেউ পাত্তা দেয় না। জীবনের শেষ সময়েও কি নিজের মাথা গোজার ঠাঁই আমি পাবো না?

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের হাকালুকি পাড়ের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ হলে আজো বুক কেঁপে উঠে। মুক্তিযুদ্ধের আগে আমি ইপিআরএ যোগ দিয়েছিলাম। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম দিকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইপিআর) বান্দরবানে পাহাড়িদের পুনর্বাসনের কাজে আমাদের একটি টিম নিয়োজিত ছিল। আমিও তাদের সাথে ছিলাম। যখন ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। তখন ২৬ মার্চ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশ দিলেন আমরা হায়েনাদের উপর যেন আক্রমণ করি। তখন আমরা পাকিস্তানি নরপশুদের উপর হামলা চালাই।

তিনি বলেন, ভারতের শিলচরের লিচুবাগান এলাকায় প্রায় ১৫ দিনের ট্রেনিং গ্রহণ শেষে দেশে ফিরে অংশগ্রহণ করি সম্মুখযুদ্ধে।

এরপর চট্টগ্রাম সীমান্ত এলাকায় গেরিলা হামলার দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। বিজয়ের পর দেশে ফিরে আসেন। মায়ের কোলে ফিরলেও বাবার দেখা আর পাননি তিনি। এসে শুনতে পান বাবা মারা গেছেন।

বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ছিনিয়ে আনতে একাত্তরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন সিরাজুল ইসলাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন আমাদের পূরণ হলেও ভাগ্যে জোটেনি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মাথাগোঁজার একটু ঠাই। অন্যের বাড়িতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আশ্রিত থাকছেন দীর্ঘ দিন থেকে এই সূর্যসন্তান।

মুক্তিযোদ্ধাদের জমি দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে সরকার দু বছর আগে নাম নিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁর। দারিদ্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলছেন তিনি। অথচ স্বীকৃতি বলতে পেয়েছেন একটি সনদ আর ভাতা।

উল্লেখ্য, সিরাজুল ইসলামের (৬৭) জন্ম কুমিল্লায় জেলায়। মুক্তিযুদ্ধের আগে তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জের ইসলামপুর গ্রামে সপরিবারে চলে আসেন। তার পিতার নাম মহররম আলী ও মাতার নাম বেগম নেছা। তিনি ৬ সন্তানের জনক। সংসারে আছেন স্ত্রী আর দুই অবিবাহিত মেয়ে। ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন। একসময় তার মাছের ব্যবসা ছিল। অসুস্থতার কারণে এ ব্যবসাও করা সম্ভব হচ্ছেনা তার। আর ভাতার টাকা যা পান তা ঔষধ কিনতে চলে যায়। খেয়ে না খেয়ে কোনরকমে সংসার চলছে তাঁর।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ