আজ শনিবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

চিকিৎসক সংকটে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  • আপডেট টাইম : April 19, 2019 8:40 AM

উপজেলা প্রতিনিধি, কুলাউড়া

মৌলভীবাজার : কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটের যেনো কাটছেই না। বিভিন্ন সময় এই হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলেও কিছুদিনের মধ্যেই বদলি এবং প্রেষণে অন্যত্র চলে যান চিকিৎসকরা।

বিভাগীয় শহরে নিজেদের প্র্যাকটিস ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সুযোগ এবং চিকিৎসকদের কুলাউড়ার প্রতি অনীহার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানালেন খোদ জেলা সিভিল সার্জন। চিকিৎসকসহ লোকবল সংকট নিয়ে প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবাদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। গত তিন বছর ধরে ৪-৫ জন মেডিকেল অফিসার ও কয়েকজন উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়ে চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। এই হাসপাতালে নিয়োগকৃত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বর্তমানে প্রেষণে বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। অথচ বেতন ভাতাদি সবকিছু এই হাসপাতালের মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ৩৮টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার জাকির হোসেন দায়িত্বরত রয়েছেন। এছাড়া ২৬টি মেডিকেল অফিসার পদ ও ১০টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদ রয়েছে এই হাসপাতালে। ১০টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের মধ্যে হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগকৃত ৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৪ জনই প্রেষণে রয়েছেন সিলেট ও মৌলভীবাজারে।

বর্তমানে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইকবাল বাহার শুধু কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া প্রেষণে দীর্ঘদিন ধরে অর্থপেডিক্স (হাড় জোড়া) বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এবিএম রেজাউল করিম ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবু নাইম মো. ইউসুফ সিলেটের শহীদ শামছুদ্দিন হাসপাতালে দায়িত্বরত রয়েছেন।

এছাড়া ২৬টি মেডিকেল অফিসারের মধ্যে বর্তমানে ৫ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। মেডিকেল অফিসার আবু বকর নাসের মো. রাশু দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৭ সাল থেকে ডা. ফাহমিদা ফারহানা খান, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ডা. মাছুম পারভেজ ও ডা. মেহেদী হাসান মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি এপ্রিল মাসে দন্ত চিকিৎসক ডা. নাফিস কামাল যোগদান করেছেন কুলাউড়া হাসপাতালে। তাদের সাথে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সেকমো) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হেমন্ত পাল, শফিকুল ইসলাম, শাহানুজ্জামান সুমন, দিপংকর দাস, শিরীনা খাতুন, ফেরদৌসী আক্তার, জরিনা খাতুন, শাহানা বেগম।

জানা যায়, প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগ, আবাসিক ও বহির্বিভাগে সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। মাত্র ৪-৫ জন চিকিৎসক দিয়ে এত মানুষের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মশালা, জেলা সদরে বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশ নিতে হয় চিকিৎসকদের। তখন চিকিৎসা নিতে আসা মানুষেরা দুর্ভোগে পড়েন। চিকিৎসক সংকটের কারণে উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম দেওয়া হচ্ছে।

২০১৫ সালে হাসপাতালে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩০ জন বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর অধিকাংশ চিকিৎসক প্রেষণে ও বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই চিকিৎসক সংকট কাটছে না এই হাসপাতালে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বলেন, চিকিৎসক ও লোকবল সংকটে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তবুও যথাসাধ্য চেষ্টার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। প্রেষণে চিকিৎসকরা অন্যত্র চলে যাবার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা সদরসহ বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রেষণে সেখানে দায়িত্ব পালন করতে চালে যান।

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন শাহজাহান কবির চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার জন্য কুলাউড়ার প্রতি অনীহা থাকায় এখানে কেউ আসতে এবং থাকতে চায় না। চিকিৎসক সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনীহার বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে সমাধানের চেষ্টা করবো।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ