আজ মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

পরিচ্ছন্ন কাজের নামে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নগরবাসী

  • আপডেট টাইম : April 23, 2019 9:50 AM

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : অপরিচ্ছন্নতা আর পরিবেশ দূষণ নগরের নিয়মিত ঘটনাগুলোর একটি। এতে অসুবিধার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও পড়ে হুমকির মুখে। আর সাথে নগরবাসীর অসুবিধা আর স্বাস্থ্যঝুঁকি তো আছেই। নগরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা থেকে বের হলেই দেখা যায় রাস্তা ঘাটে ময়লা আবর্জনা। কলার খোসা, কাগজ, প্লাস্টিকের ব্যাগ অথবা বোতল দেখা যাবে না এমন রাস্তা বা পাড়া খুব কমই আছে সিলেটে। তবে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দাবী করেছেন- অচিরেই সিলেট একটি ক্লিন নগরী হিসেবে গড়ে ওঠবে।

চলতে পথে খোলা কন্টেইনারের উপচে পড়া আবর্জনাকে নাকে হাত দিয়ে পাশ কাটানো অথবা ময়লা বহনকারী ট্রাক থেকে কিছু উড়ে এসে গায়ে পড়বে কিনা সেই উদ্বেগ নিয়েই রাস্তা চলতে হয় বহু পথচারীকে।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাত ৯ টার দিকে নগরীর আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, রিকাবীবাজারসহ বেশ কয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আবর্জনার স্তুপ জমা করে রাখা হয়েছে। যার ফলে উপচে পড়া আবর্জনাকে নাকে হাত দিয়ে পাশ কাটানো ছাড়া পথচারীদের কিছুই করার নেই।

আবার, রমজান মাসে নগরীর আবর্জনা সংগ্রহ করা হয় মধ্যরাতে। তবে রমজান মাস ছাড়া আবর্জনা সংগ্রহ করতে দেখা যায় রুটিন মাফিক ঠিক রাত ন’টার দিকেই।

‘খুব খারাপ লাগে। এগুলো সহ্য করা যায় না, কিন্তু কি করবো আমাদের তো অভাস হয়ে গেছে। তাই সহ্য করতে হয়’, বলছিলেন রুয়েল আহমদ নামে একজন পথচারী।

নগর পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঝাট দিয়ে ধুলোবালি এদিক-সেদিক উড়িয়ে দেন। এতে পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক অসুবিধা হয়। অন্যদিকে হয় পরিবেশ দূষণ। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো দৃষ্টিপাতও করছে না সিটি কর্পোরেশন। বছর চারেক আগেও নগরের আবর্জনা পরিস্কার করা হতো মধ্যরাত থেকে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কারাবরণের ফলে নগর ভবনের দায়িত্ব পাওয়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব স্বেচ্ছাচারিতায় মেতে উঠেন। তিনি আবর্জনা পরিস্কারের সময় মধ্যরাত থেকে রাত ন’টার দিকে নিয়ে আসেন। যার কারণে পথচারীদের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়াও পরিবেশের উপর ফেলে বিরূপ প্রভাব।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মিউনিসিপল গভর্নেন্স সার্ভিসেস প্রজেক্টের আওতায় সিলেট নগরীতের প্রায় দু’শতাধিক ডাস্টবিন বক্স স্থাপন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ডাস্টবিন ব্যবহারে নগরবাসীর সচেতনতামূলক কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। ডাস্টবিনের ঢাকনা অপরিচ্ছন্ন থাকায় ব্যবহার করতে অসুবিধা হয় পথচারীদের।

নগরীর রিকাবীবাজার, শাহী ঈদগাহ ও টিলাগড় পয়েন্টে (এমসি কলেজ সংলগ্ন) আবর্জনার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এশিয়ান ডেভলাপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে ও আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভারনমেন্ট হেলথ সেক্টর ডেলাপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় তিনটি স্থানে আবর্জনা জমা থাকার কথা থাকলেও সেসব আবর্জনা জমা হয় নগরীর বিভিন্ন মোড়ে। বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ততম আম্বরখানা মোড়ে আবর্জনার স্তূপ জমা হয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। যা খুবই ক্ষতিকর।

জানতে চাইলে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. ইমাদ হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ ময়লা আবর্জনা পরিবেশকে দূষিত করে। যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, নগরে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার মধ্যরাতেই হয়। এই বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিককে আরো সচেতন হতে হবে। মেয়র মহোদয় প্রতিদিনই অবৈধ ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করছেন। নগরে সকল ক্ষেত্রেই আইনের প্রয়োগ ব্যবহারে সকল রকমের ব্যবস্থা নিতে সিলেট সিটি করপোরেশন আন্তরিক।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ