আজ বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

মৌলভীবাজারে শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি

  • আপডেট টাইম : April 22, 2019 4:35 PM

জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : পর্যটন জেলা চায়ের রাজধানীখ্যাত ও দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি অধ্যুষিত মৌলভীবাজারে গেল শনিবারের প্রবল ঝড় হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে পাঁকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শিলার আঘাতে শত শত কিয়ার জমির পাঁকা বোর ধান শীষ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে আছে। দুপুর দুটায় হঠাৎ করে আসা ঝড়ের কবলে পড়ে মারাত্বক আহত হয়েছেন মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা জুড়ে অবস্থিত কাউয়াদীঘি হাওর ও পুকুরিয়া বিলের শত শত কৃষক।

রাজনগর উপজেলার সুনামপুর গ্রামের কৃষক আসাব মিয়া জানান, শনিবার দুপুরে ধান কাটতে গেলে প্রবল বর্ষন ও শিলার আঘাতে তার সারা দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এসময় তার হাতে থাকা ছাতা ও কাটা ধানের “মুইট” (ছরা) মাথায়ও পিঠে দিয়ে কোন ক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন। প্রবল বর্ষনের মত শিলার তান্ডাবে জমিতে পড়ে থাকা পাঁকা বোরো জাতের ধান ছড়া থেকে ছিটকে পড়ে যায়।

সুনামপুর গ্রামের কৃষক আনাই মিয়া জানান, তিনি ১০ কিয়ার বোরো ধান চাষ করেছেন। শিলার কবলে পড়ে তার সব ধান খসে মাটিতে পড়েছে। প্রতি কিয়ারে তিনি ১৫ মন করে ধান গোলায় তোলার আশায় ছিলেন। এখন তিনি সব জমি থেকে ১০মন ধানও কাটতে পারবেন না।

কেশরপাড়া গ্রামের হাওর পাড়ের লেচু মিয়া জানান, তিনি ৬ কিয়ার বোরো চাষ করেছেন। এক কিয়ার শিলাবৃষ্টির আগে ভালয় ভালয় কেটেছেন। বাকি ধান শীষ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। এভাবে শিলার আঘাতে পাশের সুপ্রাকান্দি, সুরিখাল, উমরপুর গ্রামের অনেক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

ফতেপুর ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওরের গোলাইয়া,ঘাগটি বিল,মাজরবান্দ বিলে শিলার তান্ডবে প্রায় ২ হাজার কিয়ারের পাঁকা ধানে ছিটকে পড়েছে।

এসব বিলে বেড়কুড়ি, ফতেপুর,শাহাপুর,জাহিদপুর,আব্দুল্লাহপুর.মেদেনীমহলসহ আরো অনেক গ্রামের প্রায় ১ হাজার কৃষক এ মৌসুমের ২৮,২৯ ও ১৪ জাতের ধান চাষ করেছেন।

শাহাপুর গ্রামের কৃষক সুয়েজ আলী জানান, শিলা বৃষ্টিত এসব বিলের প্রায় ২ হাজার কিয়ার জমির পাঁকা ধান নষ্ট হয়েছে। তার ৩৩ কিয়ার জমির বোরো ধান পুরোদমে মাটিত ছিটকে পড়েছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহজান জানান, শনিবারের শিলাবৃষ্টিতে শুধু রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ,মুন্সিবাজার ও ফতেপুর ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কর্মকতারা সরেজমিনে হাওরে ঘুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আলামত পেয়েছেন। এই ৩টি ইউনিয়নে ২শ ২০ হেক্টর ( ১ হাজার ৭শ ৬০ কিয়ার) জমির বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ