আজ সোমবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্রদল

  • আপডেট টাইম : May 1, 2019 8:36 AM

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল এখন ছত্রভঙ্গ। ঝিমিয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। আংশিক কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ ও মামলার কারণে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। এমনকি দলটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তিও সৃষ্টি হয়েছে। বিভক্তির বিষয়টি স্বীকারও করেছেন দলটির নেতারা। তবে বিভক্তি থাকলেও দলের অস্তিত্ব সংকটে সবাই এক কাতারে রয়েছেন এমনটা বলছেন তারা।

সিলেটের বর্তমান জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধ রয়ে গেছে। যখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয় তখন এর জের ধরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণসহ হত্যাকান্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

পদবঞ্চিত ও কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে অছাত্র, ছিনতাইকারী, ব্যবসায়ী ও বিবাহিতরা স্থান পেয়েছেন বর্তমান কমিটিতে। তাই আংশিক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করতে বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করে ছাত্রদলের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন গত ১৩ জুন অনুমোদন পায় সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি। দুই বছর মেয়াদি ২৮ সদস্যবিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে আলতাফ হোসেন সুমনকে সভাপতি, দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল মোতাক্কাবীর সাকীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

অপরদিকে মহানগর ছাত্রদলের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সুদীপ জ্যোতি এষকে সভাপতি, ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক ও রুবেল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নতুন উদ্যমে কাজ করাতে দলের নীতিনির্ধারকরা নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সিলেটে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তাদের এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ছাত্রদলের মধ্যকার গ্রুপিংয়ের কারণে।

ছাত্রদল সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই পরোক্ষ বিরোধ থেকে প্রত্যক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষ। কমিটি ঘোষণার আগে এই দুই পক্ষের পরোক্ষ বিরোধ থাকলেও কমিটি ঘোষণার পর পদ বঞ্চিত ও কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে পদধারী নেতকর্মীরা বিরোধ ও সংঘাত দৃশ্যমান হয়। ফলশ্রুতিতে কমিটি ঘোষণার দেড় মাসের মধ্যে খুন হন কমিটিবিরোধী পদবঞ্চিত নেতা সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুর রহমান রাজু।

কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্তই ছিল দুই পক্ষের বিরোধ। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরোধ রাজপথে সংঘর্ষের রুপ নেয়। নিজেদের অবস্থান বুঝাতে তখন দুই পক্ষই মারমুখী হয়ে পরে। যদিও এখন আর মারমুখী অবস্থানে নেই দলটির নেতাকর্মীরা।

কমিটি ঘোষণার পরের দিন গত বছরের ১৪ জুন নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটির বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল ও সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কুশপুত্তালিকা দাহ করেন ছাত্রদলের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ঝাড়– মিছিল করে নগরের মিরাবাজার থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত যান।

এরপর দিন ১৫ জুন শুক্রবার দুপুরে নবগঠিত সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে নগরের কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে বিদ্রোহী গ্রুপ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে চার-পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ করলেও কেউ আহত হয়নি।

ওই ঘটনার ঠিক ছয় দিন পর কেন্দ্রঘোষিত বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে। ওইদিন নগরের তালতলা পয়েন্টে পদধারী নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তাদের প্রতিহত করতে সুরমা টাওয়ারের সামনে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা জড়ো হন। এমন পরিস্থিতিতে স্থগিত করা হয় বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি।

গত ২৩ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করতে কাজীরবাজার এলাকায় জড়ো হন জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ওই দিনও তাদের প্রতিহত করতে সন্ধ্যাবাজার এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তবে মিছিল বের করার আগেই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন পদধারী নেতাকর্মীরা। ওইদিন ঘণ্টাব্যাপী পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে আটকও করেছিল পুলিশ।

গত ৯ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদিরকে ধাওয়া দেয় সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোজভিউ হোটেলে প্রেসব্রিফিং যোগ দিতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন মুক্তাদির। এ সময় ছাত্রদলের কমিটি প্রত্যাখ্যানকারী নেতাকর্মীরা রোজভিউ হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করেন।

এরপর গত ১১ জুলাই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয়ের পর মিছিল সহকারে তার বাসায় যান পদবঞ্চিত নেতা ফয়জুর রহমান রাজু। আরিফুলের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নগরের কুমারপাড়া পয়েন্টে হামলায় নিহত হন রাজু।

ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে অভিযোগ করে আসছিলেন। যদিও এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন।

জেলা ছাত্রদল (পদবঞ্চিত) নেতা কামরান আহমদ বলেন, যারা সবসময় মিছিলে অগ্রভাগে ছিল তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়নি। অবিলম্বে এ কমিটিকে বাতিল ঘোষণা করে ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্যদের নিয়ে কমিটি গঠনে না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও মদন মোহন ছাত্রদলে আহক্ষায়ক এস এম সেফুল বলেন, বর্তমানে সিলেট মহানগর ছাত্রদলে কর্মসূচি কোনো দ্বন্দ্ব ছাড়াই পালিত হচ্ছে। কিছুটা সমস্যা বিদ্যমান এখনো আছে এটা কেন্দ্র অবশ্যই সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এনামূল হক বলেন, সংগঠনের বিভক্তি থাকবে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সবাই এক।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ