আজ শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

বিদ্যালয় ভবনে বসতবাড়ি

  • আপডেট টাইম : May 1, 2019 8:34 AM

উপজেলা প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

মৌললীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া চা বাগানের টি- বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ২ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। ২ বছর পূর্বে দেওরাছড়া থেকে বিদ্যালয়টি বামন বিল এলাকায় স্থানান্তর করার হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বাগান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যালয় রুমগুলো এখন বসতগৃহ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগানের বাসিন্দারা। সম্প্রতি এলাকাবাসী বাগান ব্যবস্থাপক বরাবর বিদ্যালয় চালুর জন্য ও বিদ্যালয় ঘরটি দখলমুক্ত করতে আবেদন করা হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

সরজমিনে দেখা যায়, বামন বিল এলাকায় অবস্থিত টি- বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে কোনো ছাত্রছাত্রী নেই। দুর্জধন সিংরাউতি, দীপ নারায়ণ সিংরাউতির নামের দুজনের পরিবারসহ এই বিদ্যালয়ের ভবন বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিদ্যালয়টি আগে দেওরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ছিল। তখন প্রচুর ছাত্র ছাত্রী ছিলো। তবে বিদ্যালয়টি স্থানন্তর হওয়ার পর দূরত্বের কারণে অনেক শিশুরাই স্কুলে আসতে পারে না। বেমারী টিলা, ছোট বাংলো লাইন এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। এই দূরত্বের কারণে এলাকার প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকার শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও পুরাতন বিদ্যালয়কে উন্নীতকরণ করছে। বিশেষ করে পিছেয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মাধ্যমে অগ্রসর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে দেখা গেছে এর উল্টো চিত্র।

২৩ এপ্রিল সকালে বাগানের বাসিন্দা মিন্টু বারাইক, বিজয় মুন্ডা, পলাশ দাশ, অতিকা মুন্ডা (বাতাসী), পঞ্চায়েত কমিটিসহ ৩০ থেকে ৪০ জন বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয় চালু ও দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কর্মী বলেন, টি বোর্ডের স্কুলটি চালু ও দখলমুক্ত হোক এ দাবি আমাদের সবার। না হলে আমাদের সন্তানরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।

রহিমপুর ইউপি সদস্য সিতাংশু কর্মকার বলেন, টি বোর্ড পরিচালিত বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য খুব জরুরী, ম্যানেজার সাহেব আজ না কাল করে দেখতেছেন বলে কালক্ষেপন করছেন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে বাগানবাসীর পক্ষ থেকে এই বিদ্যালয়টি চালু করার দাবি জানাই।

দেওরাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তফা জামান বিদ্যালয়ের বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি টি বোর্ডের ব্যাপার, সরকারের বিষয়। এ ব্যাপারে ফোনে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।

কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালিত বিদ্যালয়টি আমাদের দেখার বিষয় নয়। এটি তাদের অর্থায়নে চলে দেখাশোনার দায়িত্ব সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভর করে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ