আজ রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

লোকমানের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় গোবিন্দগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম : April 30, 2019 11:55 PM

উপজেলা প্রতিনিধি, ছাতক

সুনামগঞ্জ : ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুস সালাম আল মাদানীকে হেনস্থার ঘটনায় লোকমান নামের বহিরাগত এক সন্ত্রাসীর প্রত্যক্ষ যোগসাজসের অভিযোগ করেছে মাদ্রাসার ছাত্র সংসদ। এমনকি এ ঘটনার পর থেকে ওই সন্ত্রাসীর অব্যাহত হুমকি ধমকীতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলেও অভিযোগ করেন ছাত্র সংসদ নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা মিলনায়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। গত শনিবারে মাদ্রাসায় সংগঠিত ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক হিসেবেও আখ্যা দেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুস সালাম আল মাদানী দীর্ঘ ২৫ বছর থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে সূচারুরুপে দায়িত্ব পালণ করে আসছেন। গত ২৭ মার্চ বুধবার আলিম পরিক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর রাতের বেলা এক ছাত্রী অধ্যক্ষকে ফোন দিয়ে আরেকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ পরদিন ২৮ মার্চ ষ্টাফ কাউন্সিলের বৈঠক ডেকে আলোচনা করেন। সেসময় অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করলে ওই শিক্ষার্থীকে তা জানিয়ে দিয়ে ১লা এপ্রিল আলিম পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে উপদেশ দেন অধ্যক্ষ।

১লা এপ্রিল পরীক্ষার হলে সে অনুপস্থিত থাকলে অধ্যক্ষ তাকে ফোন করে অনুপস্থিতির কারন জানতে চান। এসময় সে বিচার পায়নি বলে আবারো অভিযোগ করলে অধ্যক্ষ তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়ার কথা বলেন। এরপর সে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেনি এবং কোন লিখিত অভিযোগও দায়ের করে নি।

গত শনিবার মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষক ট্রেনিং ও ছাতকে পরীক্ষা হলে ডিউটিতে থাকায় আলিম ১ম বর্ষে অধ্যক্ষ নিজে ক্লাস নিতে যান। এসময় ওই অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আকশ্মিকভাবে অধ্যক্ষের দিকে তেড়ে আসে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অপচেষ্টা করলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়ে।

রহস্যজনকভাবে ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বহু মামলার আসামী লোকমান তার ২/৩ জন সঙ্গীসহ উপস্থিত হয়ে হাঙামা শুরু করে এবং ভিডিও করতে থাকে। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সদস্য শামীম আহমদ ও শ্যামনগরের আজমল হোসেনসহ এলাকার মুরব্বীগণের হস্তক্ষেপে সে মাদ্রাসার সীমানার ভেতর থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়। যাওয়ার সময় এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কর্মচারীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় সবাইকে গালিগালাজ করে।

ঘটনার মিনিট দশেক পর ছাতক থানার ভাপরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হন। সবাইকে নিয়ে আলোচনার সময় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ নেই বলে জানায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। তবে অভিযোগের বিচার না করায় অধ্যক্ষকে হেনস্থা করেছে বলে জানায় ওই ছাত্রী। অবশেষে অনুতপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ মহোদয়ের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চায় এবং তার পিতাও সবার সম্মুখে অধ্যক্ষের কাছে মাফ চান।

পরবর্তীতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায়ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থী আবারো অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছে পা ছুয়ে মাফ চাইলে অধ্যক্ষ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তার সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করেন।

এরপর ওই ছাত্রী মামলা করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গভর্নিং বডি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার পর লোকমানের অব্যাহত হুমকি ধমকীতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক রাজিবুর রমানের মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে ছাত্র সংসদের কোনো বক্তব্য নেই বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন, ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিব, জিএস তারেক আহমদ, এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী ভিপি রফিকুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ