আজ শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

আবারো ‘অভিভাবকহীন’ নগর ভবন

  • আপডেট টাইম : August 24, 2017 2:19 PM

তাওহিদ রাসেল : হজ্বে গেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেয়রের অনুপস্থিতিতে জৈষ্টতার ক্রমানুসার মেয়রের প্যানেলের একজনকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু বিধি বাম! কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই সৌদিআরবে পাড়ি দিয়েছেন সিলেটের নগর পিতা। আর তাই কার্যত অভিভাবকহীন শূন্য হয়ে পড়েছে সিলেট নগরী ও নগর ভবন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব আজকের সিলেট ডটকমকে জানান, মেয়র মহোদয় আজ পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সৌদিআরবে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি গতকালই সিলেট ত্যাগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দায়িত্বপালনের বিষয়ে কোন অফিস আদেশ পাইনি। এজন্য এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

সংশ্লিস্ট সূত্রমতে, মেয়রের অনুপস্থিতিতে মেয়র প্যানেল থেকে জৈষ্টতার ক্রম অনুসারে এক জনকে দায়িত্ব দেয়ার কথা থাকলেও তিনি দায়িত্ব দেননি । যদি দিতেন তবে প্যানেল মেয়র ১ হিসেবে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে দিতে হয়। আর কয়েস লোদীকে না দিতেই তিনি কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে চলে যান। আর এ নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

সিটি কর্পোরেশনের চলতি পরিষদের শুরু থেকেই অজ্ঞাত করনে মেয়র আরিফ সিটি কর্পোরেশনের এই নিয়মটি মানছেননা। ফলে বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছিল।

জানা যায়, এর আগেও যখন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় জেলে বন্দী ছিলেন। এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সাময়িক বরখাস্ত করে মেয়র আরিফকে। একই সাথে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জৈষ্ট প্যানেল মেয়রের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এই নির্দেশও মানা হয়নি বরং আদেশের কপি সিটি করপোরেশনের পৌছার পর আরিফুল হক চৌধুরী সমর্থিত কাউন্সিলরদের একটি পক্ষ তার বিরোধীতা করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্য করে সে সময় কয়েক দিন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারজুড়ে বসেছিলেন প্যানেল মেয়র-২ এডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধুরী।

এনিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বাধিন ব্যাঞ্চ ২০১৫ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। এই রায়ে কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে আনিত অনাস্থা ও প্যানল মেয়র ১ কে বাদ দিয়ে ২ কে দায়িত্ব দেয়ার চিঠি দেয়াকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়। এবং এই রায় প্রকাশিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কর্পোরেশনের আ্নমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘রীট পিটিশন নং-৩৬৫/১৫ ও ১১৯২৫/১৪ এর রায়ের নির্দেশনা প্রতিফলন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেন। স্মারক নং-অম (মন্ত্রী)/পিএস/২০১৬/১২৯। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সেই চিটিরও উপিক্ষিত থেকে যায়।

আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসলেন মেয়র আরিফ। এনিয়ে খোদ তার দল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র (১) ও ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে চাইনা।

তবে কয়েস লোদীর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, এই বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি পূর্ণাঙ্গ রয়েছে। এই রায়টি বাস্তবায়ন অথবা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে উনারা নিশ্চুপ রয়েছেন। এমতাবস্থায় তিনি প্যানেল মেয়র ১ কে দায়িত্ব না দিয়ে আদালত অবমাননা করেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে আবারো আদালতের স্মরনাপন্ন হবো।

 

(আজকের সিলেট/২৪ আগষ্ট/এসটি/ঘ.)

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ