আজ রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

অনন্তহীন ৪ বছর

  • আপডেট টাইম : May 12, 2019 9:32 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : বিজ্ঞান লেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৫ সালের ১২ মে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে নগরীর সুবিদ বাজারে নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অনন্তকে। চার বছরেও শেষ হয়নি এই মামলার বিচার কাজ। চারবছরের মাথায় গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যগ্রহণ। মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সব আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলার দূর্ঘসূত্রিতায় অনন্তর স্বজন ও সহযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তবে এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মাসুক আহমেদ বলেছেন, মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। এক আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।

অনন্ত হত্যার তাঁর বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে নগরীর বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে এ মামলার তদন্তভার পুলিশের হাতে থাকলেও পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগকে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ৬ জনকে অভিযুক্ত করে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

অভিযুক্তদের মধ্যে মান্নান ভুঁইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি। অপর আসামীদের মধ্যে আবুল খায়ের রশিদ আহমদ ও সাফিউর রহমান ফারাবী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর আবুল হোসেন, ফয়সল আহমদ, হারুণ আল রশিদ এখনও পলাতক।

২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। সর্বশেষ গত ৭মে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় স্বাক্ষ্য দেন অনন্ত’র বড় ভাই ও মামলার বাদী রত্নেশ্বর দাস। তবে এদিন আসামীরা উপসস্থিত না থাকায় তাদের জেরা করা হয়নি। আগামী ৯ জন স্বাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

চার বছরেও মামলার বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেটের সংগঠকরা। গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক রাজীব রাসেল বলেন, প্রকাশ্যে অনন্ত বিজয়কে হত্যা করা হয়েছে। অথচ চার বছরেও তার খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জঙ্গিরা আস্কারা পাচ্ছে বলে অভিমত তাঁর।

অনন্ত’র ভগ্নিপতি নাগরিক মৈত্রী, সিলেটের সমন্বয়ক সমর বিজয় সী শেখর বলেন, ছেলে হত্যার বিচার না দেখেই অনন্তর বাবা মারা গেছেন। তাঁর মাও অসুস্থ। জীবিত অবস্থায় ছেলে হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে চান মা। কিন্তু মামলার কার্যক্রমের মন্থর গতির কারণে তা কতটুকু সম্ভব হবে বুঝতে পারছি না।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি মাসুক আহমেদ এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে বলেন, একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলায় স্বাক্ষী সংখ্যাও বেশি নয়। মাত্র ২৯ জন। ফলে বিচার কাজ শেষ হতে খুব দেরী হবে না। আদালতও এই মামলার ব্যাপারে খুব আন্তরিক। তাই আমরা আশা করছি, দ্রুতই বিচার কাজ শেষ করে আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবো।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ