আজ রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

প্রশাসক পাচ্ছে সিলেট চেম্বার

  • আপডেট টাইম : May 14, 2019 11:58 AM

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : জাল ভোটার তালিকা প্রণয়নের পথ ধরে নির্বাচন স্থগিত, অতঃপর শেষ পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগের পথে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েও বর্তমান কমিটি মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হলো। ফলে এবার প্রশাসক নিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনায় সরব সিলেট চেম্বার।

সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল ডিভিশন সিলেট চেম্বারের সময় বাড়ানোর আবেদন সংক্রান্ত রিট খারিজ করে দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন মাস সময় বাড়ালেও আদালতের রায়ের পর আগামী ৩১ মে খন্দকার সিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

এই কমিটির মেয়াদে স্বল্প সময়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ছয় বছর পর আবারো সিলেট চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ভোটার জালিয়াতি ধরা পড়ার পরও সিলেট চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তিন মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করে। এই আবেদনের পর সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপের (সারেগ) প্রতিনিধি ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ গত ২১ এপ্রিল আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন।

তাহমিন আহমদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল ছয় মাসের জন্য সিলেট চেম্বারের কার্যক্রম স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রুলের পর সিলেট চেম্বার আপিল করে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে তা খারিজ করে দেন বলে ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমাম হাসান জানান।

এর ফলে সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপের (সারেগ) প্রতিনিধি তাহমিন আহমদের কাছে হেরে গেলো খন্দকার শিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ। সেই সঙ্গে কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন করার পথ বন্ধ হয়ে গেলো সিলেট চেম্বার অব কমার্সের।

গেলো ২ ফেব্রুয়ারি সিলেট চেম্বারের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান বিজিত চৌধুরী। সেই তফসিল অনুযায়ী ২৭ এপ্রিল অর্ডিনারি শ্রেণিতে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট শ্রেণিতে ৬ জন, ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ১ জনসহ মোট ২২টি পরিচালক পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গত ১৮ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরজমিনে অভিযোগের সত্যতা পায়। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জাল টিএনআই নম্বরসহ তথ্য জালিয়াতি করে সিলেট চেম্বারের ৪০ শতাংশ সদস্যকে অযোগ্য ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ। ওই আবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ভোটার তালিকা সংশোধন পূর্বক ৩ মাসের মধ্যে এই পরিষদ নির্বাচন করবে মর্মে ৩ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আবেদনে চেম্বার সভাপতি এও উল্লেখ করেন, সিলেট চেম্বারের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ৩১ মে’র মধ্যে শেষ হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে না পারলে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যগণ পরবর্তী ছয় বছর কোনো বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

অথচ সাবেক নির্বাচনী বোর্ড ভুয়া ভোটার শনাক্ত করায় চেম্বার সভাপতি তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী বোর্ড ও আপিল বোর্ড সংস্কারে হাত দেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৫ এপ্রিল সিলেট চেম্বার কর্তৃপক্ষ আগের নির্বাচনী বোর্ড ও আপিল বোর্ড বাতিল করে নতুন করে দুটি কমিটি গঠন করেন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরীকে বাদ দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে নতুন করে তিন সদস্যের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।

পাশাপাশি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে চেয়ারম্যান করে আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করে সিলেট চেম্বার।

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গত বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রথমবার নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সেই সময়ে গঠিত দুটি কমিটি চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এদিকে ২০১৯-২০২১ সেশনের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় বিব্রতবোধ করায় সিলেট চেম্বারের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী পদত্যাগ করেন।

সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপের (সারেগ) প্রতিনিধি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক তাহমিন আহমদ বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অবস্থান নিয়েছিলাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলো।

সিলেট চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, পরিষদের দুইটি কাজ। এর একটি সাধারণ সভা করা অন্যটি হলো নির্বাচন। মঙ্গলবার পরিষদ বসে এ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। তবে আদালতের আদশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। স্বভাবতই ৩১ মে পরিষদের মেয়াদ শেষে প্রশাসক বসবে চেম্বারে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ