আজ বুধবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

রাতেও ‘সরব’ নীরব শহর

  • আপডেট টাইম : June 1, 2019 10:17 PM

এ এস রায়হান

সিলেট : ঈদের বাকি হাতে গুনা কয়েকদিন। ঈদকে সামনে রেখে নগরের শপিংমল আর বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়ে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই দোকানীদের। যেন ক্রেতাদের ভিড়ে গভীর রাতের নীরব শহর সরব হয়ে উঠেছে।

সকাল থেকে কেনাকাটা শুরু হয়ে চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনী বিতান ঘুরে দেখা যায়, রাত ১ টার পরও ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়ে জমজমাট মার্কেটগুলো। ক্রেতাদের এ ভিড় থাকবে সেহরির সময় পর্যন্ত।

পরিবার নিয়ে হাউজিং ইস্টেট থেকে ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতে কেনাকাটা করতে এসেছেন সাইফুর রহমান।

তিনি জানান, দিনের বেলায় অফিসের নানা কাজের কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটায় আসা হয় না। তাই ইফতার করে বের হয়েছি। রাতে পরিবারের সবাই একসাথে বের হওয়া যায় এবং সবার সঙ্গে কেনাকাটা অনেকটা আনন্দময় হয়।

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা রাহিম নামের এক কলেজ পড়ুয়া যুবক জানায়, দিনের বেলা রোজা রেখে বাসে করে আসা বিরক্তিকর তাই রাতে কেনাকাটা করতে সে এসেছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, জিন্দাবাজারের সিলেট সিটি সেন্টার, আল হামরা, সিলেট মিলেনিয়াম, ব্লু- ওয়াটার শপিং সিটি, কানিজ প্লাজা, কাকলি শপিং সিটি, গ্যালারিয়া, শুকরিয়া, লতিফ সেন্টারসহ প্রায় সব ক’টি মার্কেটের দোকানগুলো সেহরির আগ পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া হাসান মার্কেট, আহমদ ম্যানশন, কাজী ম্যানশনেও প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ভিড় দেখা গেছে।

শুধু নগরীর বড় মার্কেটই নয় সৌখিন ক্রেতা বিশেষ করে তরুণ তরণীরা গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করছেন আধুনিক বিপনী বিতানগুলোতে। বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে এসব বিপনী বিতানে।

দাম বেশি হলেও মানসম্পন্ন ও পছন্দের জিনিস কিনতে সৌখিন ক্রেতারা ভিড় করছেন। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সকাল থেকে সাহরির সময় পর্যন্ত খোলা থাকছে বিপনি বিতানগুলো।

সরজমিনে ঘুরে, নগরের আড়ং, মনোরম, মাহা, শী, অপরূপা, কুমারপাড়ায় সিগনেচারসহ অনেক অভিজাত বিপনী বিতানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এসব দোকানের বিকিকিনিও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। শাড়ি, শার্ট, পেন্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবী, শিশুদের ড্রেস, আনরেডী ড্রেস কসমেটিক্স ইত্যাদি এসব বিপনী বিতানে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে নগরবাসীকে নিরাপদে কেনাকাটা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। প্রতিটি মাকের্ট, বিপনী বিতানের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনীর সদস্যদের।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. জেদান আল মুসা বলেন, ‘আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ১৫ রোজা থেকে আমার নগরের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটে সামানে র্ফোস মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সুষ্টি না হয় সেজন্য দিনরাত কাজ করছে আমাদের ট্রাফিক পুলিশ।

এদিকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন গাড়িকে সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা নগরের হুমায়ুন রশীদ চত্বর ও কদমতলী টার্মিনাল এলাকায় নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও নগরের মার্কেট ও শপিংমলের পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ