আজ বুধবার, ৩রা জুন, ২০২০ ইং

ধান চাষে আগ্রহ নেই কৃষকদের

  • আপডেট টাইম : August 17, 2019 7:48 AM

জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কৃষকরা। তাদের চোখজুড়ে এখন শুধুই হতাশা। আর মুখজুড়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এমন হতাশা আর ক্ষোভ রূপ নিয়েছে নিরুৎসাহ আর অনীহায়। কৃষকদের মাঠজুড়ে এখন শস্যশূন্যতা! বাংলার কৃষকেরা সাধারণত বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বৈশাখে বোরো ধান, ভাদ্রে আউস ধান আর অগ্রহায়নে আমন ধান চাষ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় এ চাষাবাদ থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

তবে এ হতাশা মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষিবিভাগ। এখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান- দাম নেই বলে ধান না লাগানোর অভিযোগটি ভিত্তিহীন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ধানশূন্য মাঠের পর মাঠ। ধান চাষের কোনো চিহ্নমাত্র নেই। কৃষকরা এ মৌসুমে ধান চাষ ফেলে অন্য কাজে মনোনিবেশ করেছেন। কেউ কেউ আবার দিনের পর দিন হতাশার আগুনে পুড়তে পুড়তে বিকল্প পেশাও খুঁজছেন।

কথা হয় ৫২ বছর বয়সী কৃষক কাজল দেবের সঙ্গে। নিজের ব্যক্তিগত দুই বিঘা (প্রায় ৬০ শতাংশ) কৃষি জমি ছাড়াও বর্গা চাষ করে থাকেন তিনি। তিনি বলেন, ধানে দাম নেই। তাই ধান চাষ করে আমাদের লাভ হচ্ছে না। বৈশাখে বোরো ধান লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু লাগিয়ে লাভ কি?

তিনি আরও বলেন, ক্ষেত না করে যদি অন্য কাজে যেতাম, তাহলে দুপুর ২টার মধ্যে প্রায় ৪শ’ টাকা নিয়ে আসতে পারতাম। কিন্তু চাষাবাদ করে এই বয়সে এসে বিপদে পড়ে গেছি। এখন না পারবো অন্য কোনো কাজ করতে, না পারবো নতুন করে ধান চাষ করে আবার ক্ষতির মুখে পড়তে।

তিন ধরনের ফসল চাষের ব্যাপারে তিনি বলেন, এক ফসলের ক্ষতিই তো সামলে উঠতে পারি না। আবার তিন ফসল? তিন ফসলে তো আরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। তবে আগে আমরা আমাদের ক্ষেতে তিন ফসলের ধান-ই চাষ করেছি। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পাঁচ কেজি ধান বিক্রি করে এক কেজি ডাল কেনা যায় না। বুঝুন তবে বর্তমান অবস্থা।

কাজল দেব অভিযোগ করে বলেন, দু’বছর আগে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে তিন জাতের এক মন সার পেয়েছিলাম। দু’বছর পর এবার মাত্র ৩০ কেজি সার পেয়েছি। প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে প্রকৃত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। বরং যারা কৃষক না, তারাই নানান ধরনের কৃষিসুবিধা পাচ্ছেন। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?

তবে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে ভিন্নকথা বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা। তিনি বলেন, আসল ঘটনা কিন্তু এটা না। যে সময় আমাদের বীজতলা করার কথা, ওই সময় বৃষ্টি হয়নি। তারপরও যখন কৃষকরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে বীজতলা করবেন, তখনও বৃষ্টি হয়নি। আউস আর আমন- এ দুটো ধানই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা সঠিক সময়ে ধানের বীজগুলো লাগতে পারেনি। আমরা বলি ২০ দিনের মধ্যে চারা লাগাতে, কিন্তু চারার বয়স হয়ে গেছে তখন ৩০ দিন। এটা লাগালে তো আর ধান পাবে না। খাজনার চেয়ে বাজনাই যেনো বেশি। তাই এই অবস্থা।

সারের ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে ইউনিয়নভিত্তিক কৃষকদের কৃষি উপকরণ দিতে গেলে ‘প্রণোদনা নীতিমালা’র ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আর এই নীতিমালাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব ও হস্তক্ষেপ থাকে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে প্রকৃত কৃষক যাতে কৃষি সুবিধা পায়, এ বিষয়ে আমি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ