আজ মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি

  • আপডেট টাইম : জুলাই ১৪, ২০১৯ ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ

এ এস রায়হান

সিলেট : সিলেট বিভাগের সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিভাগের লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় পানিতে আটকা পড়েছেন। সিলেট অ লের তিনটি উপজেলার বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। যত সময় যাচ্ছে নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমথে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসন।

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে বিকেল চারটা পর্যন্ত, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানির বিদসমীমার ১.৪২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে এই নদীর পানির উচ্চতা রয়েছে ১৩.৬৭ মিটার।

সিলেট সদরে সুরমা নদীর পানি ১০.৭৫ উচ্চতা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপসদীমার দশমিক ৫০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদরে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া শহরের ভেতরে পানি প্রবেশ করছে। এতে শহরের অবস্থাও ধীরে ধীরে খারাপ হতে চলেছে।
বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৩ দশমিক ১২ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ৬২ মি. উপরে এবং জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৬ দশমিক ২৩ মিটার যা বিপদসীমার ১ দশমিক ২৮ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সারি নদীর পানি এখানো বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বর্তমানে এই নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ১২ মিটার নীচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে এই নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের কর্মকর্তারা।

সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৮৪ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ৬ দশমিক ২৯ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ২১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাদুকাটা নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ৬ দশমিক ৯৪ মিটার থাকলেও এটি বিপদসীমারর ১ দশমিক ৬ মিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দিরাইয়ে সুরমা মেঘনা পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৫০ মিটার নীচে অবস্থান করছে।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় খোয়াই নদীর পানি সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৯০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিদসমীর ১৫ মিটার নীচে প্রবাহিত হচ্ছে। চুনারুঘাটে খোয়াই নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ২২ দশমিক ২৩ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ৮৩ মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৪২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১১.০৩ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ৩৩ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাউড়া মনু নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৭ দশমিক ৫২ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ৩৭ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৯ দশমিক ২৬ মিটার যা বিপদসীমার দশমিক ২২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা নাজুক। বিভাগের প্রতিটি নদীর পানি বাড়ছে।

এই প্রকৌশলী বলেন, সিলেটে এখন পর্যন্ত তিনটি উপজেলায় নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। তাই গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি খারাপ অবস্থায় রয়েছে। নদীর পানি বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

এদিকে, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এদের মধ্যে জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ৪৩ টন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপামি ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সিলেটের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় আক্রান্ত রয়েছেন।’

সিলেট সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করেনি। তাই আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ের মাঠকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। তারা ইতোমধ্যে কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ আছে কি না নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ