আজ রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

উল্টোপথে সরকারি গাড়ি, সমালোচনার ঝড়

  • আপডেট টাইম : August 5, 2019 9:45 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : নগরীতে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের কর্মকর্তারা। শনিবার বিকেলে হিজড়াদের বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টো পথে আসা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। উল্টো পথে আসার সময় অটোরিকশাটি আটকে অন্য সড়ক দিয়ে যাওয়ার কথা বললে ট্রাফিক পুলিশকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে দুই হিজড়া। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উল্টোপথে সরকারি গাড়ি চালানোয় সমালোচনায় সরব নেটিজেনরা।

ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাদা একটি পাজেরো গাড়ি। যার নম্বর ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১১-২২৭২। গাড়ির পেছনের গ্লাসে লাগানো হলুদ রঙের একটি স্টিকার। এতে লেখা রয়েছে ‘ভোগ নয়, ত্যাগ চাই, উন্নত দেশ গড়তে চাই। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।’

এ গাড়ির সামনে আরও দুটি গাড়ি রয়েছে। উল্টোপথে ঢোকা এ ৩টি গাড়ির কারণে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এ দৃশ্যের বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

ছবির সূত্র ধরে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়ি তিনটি উল্টোপথে ঢোকার কারণে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। ফলে দেখা দেয় দুর্ভোগ। তাছাড়া সড়কের এক পাশে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকার কারণে পথচারীরাও পড়েন বিপাকে। দীর্ঘ সময় যানজটে পড়ে ভোগান্তির কারণে অনেকেই সড়ক ও জনপথের এ গাড়ির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কড়া সমালোচনা করা শুরু করেন।

কার্জন আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “ওনাদের গাড়ির পেছনে লেখা, ‘ভোগ নয় ত্যাগ ছাই উন্নত দেশ গড়তে চাই।’ ওনারা আবার চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার রাস্তায় উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে লম্বা লাইন লাগিয়ে রাখছেন। উনারা কারা? এসব কী সাংবাদিক ভাইদের চোখে পড়ে না।”

তবে গাড়ি যারই হোক তা ট্রাফিক পুলিশের আটক করা উচিত জানিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া বলেন, ‘আমার গাড়ির নম্বর আমি জানি। অন্যগুলো আমি জানি না। তাছাড়া ওই সময় ওখানে কার গাড়ি ছিল তাও আমার জানার কথা নয়। তবে উল্টোপথে কোনো গাড়ি ঢুকলে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সড়কের শৃঙ্খলার জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। তবুও হয়তো ট্রাফিকের অগোচরে এমন কিছু ঘটে থাকতে পারে। সম্ভবত এ সময় চৌহাট্টা পয়েন্টের কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কোনো কারণে আশেপাশে কোথাও গিয়েছিল। এই সুযোগে গাড়িগুলো ঢুকে গেছে।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ