আজ শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

চামড়ার দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সিলেট

  • আপডেট টাইম : August 17, 2019 9:44 AM

আহমদ ইমরান, অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া এলাকার দীর্ঘদিন থেকেই নগরীর ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে সিলেটে সিটি কর্পোরেশন। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর সিসিক এই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে। সিসিকের এই নির্ধারিত স্থানে দুই দিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় এসব ময়লা আবর্জনা আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এসব কারণে দীর্ঘদিন থেকেই লালমাটিয়া এলাকাবাসী এই স্থান থেকে ময়লার ভাগাড় সরাতে আন্দোলন করে আসছেন।

কিন্তু সিলেট সিটি কর্পোরেশন তাদের দাবিকে অগ্রাহ্য করে প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এসব কারণে এলাকায় স্থায়ী দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই স্থায়ী দুর্গন্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে কোরবানির পশুর চামড়ার কারণে। পবিত্র ঈদুল আযহার সময় কোরবানি দাতারা চামড়ার ন্যায্য মূল্যে না পেয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে যান।

পরে এসব চামড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশন একত্র করে প্রায় ২০ ট্রাক চামড়া লালমাটিয়া এলাকায় ডাম্পিং এর জন্য ফেলে দেয়। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিক থাকলেও গত দুদিন থেকে এসব চামড়া পচা গন্ধের কারণে স্থানীয়রা ঠিকতে পারছেন না। দক্ষিণ সুরমার প্রগতি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে পীর হবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই দুর্গন্ধের কারণে প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে চলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আর এসব চামড়া পচার কারণে পানির সাথে মিশে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সিলেট সিভিল সার্জন।

এছাড়া পচা চামড়ার কারণে বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন ধরণের রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উচিত অতিদ্রুত চামড়াগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা।

এদিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ বলেছেন, দক্ষিণ সুরমাবাসী এই দুর্গন্ধের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন থেকেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই স্থানে ময়লা ফেলে আসছে। আমরা বিভিন্ন সময় লালমাটিয়া থেকে ময়লা ফেলার স্থান সরানোর জন্য বলেছি। কিন্তু সিলেট সিটি কর্পোরেশন তা করেনি। উল্টো এবার কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে দক্ষিণ সুরমারবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে। কারণ কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ম অনুযায়ী মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হয়। কিন্তু সিলেট সিটি কর্পোরেশন তা করেনি। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে, কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।

আর দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া এলাকায় ময়লা ফেলার কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এজন্য আমরা কোরবানির আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে বলেছিলাম, ময়লাগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলতে এবং মানুষের সমস্যার কথা বিবেচনা করতে। কিন্তু কোরবানির পশুর চামড়ার কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আমরা সিসিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো। যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, এসব চামড়া এভাবে খোলা জায়গায় ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনভাবেই সিসিকের পক্ষ থেকে এটা করা উচিৎ হয়নি। এর ফলে মহামারি দেখা দিতে পারে। কারণ পশুর চামড়া থেকে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়ে পরিবেশের সাথে মিশে পরিবেশ দূষিত করবে। বৃষ্টির পানির সাথে জীবাণু বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে নদীনালা ও খালের পানির সাথে মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। সব কথার শেষ কথা খোলা জায়গায় এসব চামড়া ফেলার কারণে মহামারি দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন ধরণের রোগ সৃষ্টি হবে। এটা সিলেটবাসীর জন্য বড় হুমকি। তাই যত দ্রুত সম্ভব চামড়াগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দুর্গন্ধ দূর করতে হবে। তাতে যদি কিছুটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি দূর হয় তবে বাঁচা যায়।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ সুরমাসস্থ আমাদের ময়লা ডাম্পিং এর নির্ধারিত স্থান ছাড়া আর কোন জায়গায় ফেলার জায়গা নেই। তাছাড়া চামড়ার এ ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে কখনো চামড়া ফেলা হয়নি। তাই আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু দুর্গন্ধ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকির ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না। এখন জানলাম। আমি মেয়র মহোদয় ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে কালকেই ব্যবস্থা নেবো।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ