আজ শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

চামড়ার দরপতনে ক্ষতির মুখে মাদরাসাগুলো

  • আপডেট টাইম : August 18, 2019 9:16 AM

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেটের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিশখানার শিক্ষক শিক্ষার্থীর প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল আযহার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। কারণ ঈদুল আযহার দিনে কোরবানী হওয়া পশুর চামড়া দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার ৬ মাস থেকে ১২ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারেন।
এবারও সিলেটের অসংখ্য মাদ্রাসার ও এতিমখানার পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিলো। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিজ নিজ পশু কোরবানী দিয়ে পশুর চামড়া মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারে মাদ্রাসাগুলোতে দান করেছেন। তবে এবারের পশুর চামড়ার দাম একেবারে মাটিতে নেমে আসায় আসাহত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধাররা।

এবছর চামড়া থেকে মাদ্রাসাগুলোর আয় না আসায় মাদ্রাসা পরিচালনায় বেশ সমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিমত চামড়ার বাজারের এই ধ্বসের কারণে মাদ্রাসার আয় কমে গেলেও মাদ্রাসাগুলো থেমে থাকবেনা। সকলের সহযোগিতা ও শিক্ষানুরাগীদের সাহায্য সহযোগিতায় মাদ্রাসাগুলো যথারীতি পরিচালিত হবে।

হযরত শাহজালাল (রাহ:) দরগাহ মাদ্রাসাসহ সিলেটের সবগুলো মাদ্রাসার চামড়াই ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীতে অথবা পুতে ফেলা হয়েছে মাটিতে। অনেকই রাস্তার ধারে চামড়াগুলো ফেলে রেখে দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলেন। এব্যাপারে জামায়ো মাদানিয়া আঙ্গুরা মোহাম্মদু মাদ্রাসার মহা-পরিচালক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শায়খ জিয়া উদ্দিন বলেন, একটি অপশক্তি মাদ্রাসা শিক্ষাকে বাধাগ্রস্থ করতে পশুর চামড়া নিয়ে নানা কলাকৌশল চালিয়ে গেছে। একটি সিন্ডিকেট চামড়া নিয়ে বাড়াবাড়ি করায় বর্তমানে এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদ্রাসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাহায্য সহযোগিতায় মাদ্রাসাগুলো যথারীতি চলবে ইনশাআল্লাহ।

মেজরটিলা জামেয়া দারুল কোরআন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সাবেক সংসদ সদস্য শাহিনুর পাশা চৌধুরী বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার এই অবস্থায় শুধু মাদ্রাসাগুলো নয় আরোও অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
এবারও ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন সিলেটের বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। এবারের ঈদেও তারা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে না পারায় প্রতিবাদ স্বরূপ সেগুলো ফেলে দেওয়া হয় নদীতে। রাস্তার পাশেও ফেলে রাখা হয়েছে বহু কোরবানির পশুর চামড়া। এভাবে সিলেটে প্রায় ৯০ ভাগ চামড়া নষ্ট হয়েছে বলে দাবি চামড়া ব্যবসায়ীদের।

ঈদে বালাগঞ্জ উপজেলার ৫টি মাদরাসার সংগৃহীত সাড়ে ৩ শ’ গরুর চামড়া ফেলে দেওয়া হয় কুশিয়ারা নদীতে। শুধু বালাগঞ্জ নয়, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় মাদরাসাগুলোতে এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আর সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় দাম না পাওয়ায় রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে রাখা হয়। নগর এলাকা থেকে অন্তত; ২০ ট্রাক পশুর চামড়া ময়লার ভাগাড়ে নিয়ে পুঁতে ফেলা হয়, জানিয়েছে সিসিক সূত্র।

মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাতিন বলেন, মাদরাসা পরিচালনায় তহবিলের জন্য প্রতি বছর চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। এবার ক্রেতা নেই। চামড়া পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আর মাটিতে পুঁতার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই, তাই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সিলেট বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শামীম আহমদ বলেন, চামড়ার দর নেই, ক্রেতাও নেই। তাই মানুষ প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় ও নদীতে ফেলে দিয়েছে। দাম না পেয়ে সিলেটে প্রায় ৯০ ভাগ চামড়া নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আর ১০ ভাগ চামড়া স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় আড়তে আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ীকে ৩২ লাখের স্থলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ লাখ টাকা। শুধু সিলেটের ব্যবসায়ীরা আড়তে পাওনা রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। একইঅবস্থা কেবল সিলেটে নয়, সারা দেশের।

অন্যদিকে চামড়ার দাম কমিয়ে প্রতি পিস গরুর চামড়া ৪৫ টাকা ও খাসি-ছাগলের চামড়া ১০ টাকা ফুট নির্ধারণ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা প্রতি পিস চামড়ার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী বাকিতে চামড়া কিনতেও রাজি না হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ রাস্তায় চামড়া ফেলে প্রতিবাদ জানান। পরে চামড়াগুলো ময়লার সঙ্গে তুলে নেয় সিসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ