আজ মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং

তামাবিল সীমান্ত ইমিগ্রেশনে অন্তহীন হয়রানি

  • আপডেট টাইম : আগস্ট ২২, ২০১৯ ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : তামাবিল সীমান্ত দিয়ে সারা বছর কয়েক লাখ মানুষ ভারতে প্রবেশ করেন। চিকিৎসা, ভ্রমণসহ নানা কারণে প্রতিদিন তামাবিল সীমান্ত দিয়ে হাজার খানেক মানুষ। আর উৎসব, ছুটিতে ভারতগামী মানুষের ভিড় জমে এই সীমান্তে। এই ভিড় সামাল দিতে গিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়ে তামাবিল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ইমিগ্রেশন পুলিশের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড, যাত্রীদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, যে কোনো ছুতোয় হয়রানির প্রবণতায় মানুষ দুঃসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া আর্থিক লেনদেন, হয়রানি অভিযোগও আছে ইমিগ্রেশন পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে ইমিগ্রেশন পুলিশ আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, সকালে লাইনে দাঁড়ালে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ হতে বিকেল হয়ে যায়। ডিজিটাল এই যুগে ইমিগ্রেশন শেষ হতে যেখানে কয়েক মিনিটে লাগে, সেখানে তামাবিলে ইমিগ্রেশন করতে কতো ঘণ্টা যে লাগবে কেউ জানে না! পুরো দেশ ডিজিটাল হয়েছে সেখানে চলছে অথচ এখানে এখনও চলছে খাতা কলমের কারবার। এছাড়া ইমিগ্রেশনের সামনে দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আর যদি বৃষ্টি হয় তাহলে তো দুর্ভোগের শেষ নেই। কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির কাঁদার মধ্যে দাড়িয়ে থাকতে হবে। এভাবেই চলছে তামাবিল ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম।

অথচ ২০০১ সালে তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দর ঘোষণার পর ২০১৫ সালে ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যালয়ের ভৌত কাঠামোগত উন্নয়ন রয়েছে উপেক্ষিত। তবে ইমিগ্রেশন পুলিশ জানিয়েছে, ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আর এর টেন্ডারও হয়ে গেছে। খুব শীগ্রই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ঈদুল আযহার ছুটি কাটাতে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন ব্যাংকার আবু আজাদ।

তিনি বলেন, ঈদের পরদিন থেকে প্রচুর পরিমাণ মানুষ ভারতে গেছেন। সেই তুলনায় তামাবিল সীমান্তে জনবল বা অবকাঠামো নেই, যার কারণে সকাল থেকে লাইন ধরে অনেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন নি। এছাড়া বৃষ্টির কারণে কাঁদার মধ্যে ইমিগ্রেশন লাইনে দাড়াতে হয়েছে। বিশেষ করে রোগী ও মহিলাদের সমস্যা বেশি হয়েছে।

আর তামাবিল ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ সৈয়দ মওদুদ আহমদ রুমী বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার পরদিন থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছেন। সেজন্য ইমিগ্রেশনে একটু সময় লেগেছে। কারণ অতিরিক্ত মানুষ হলে সময় একটু বেশি লাগবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া যারা যাত্রী তাঁরা সবাই সকাল থেকে এসে লাইনে দাড়িয়ে যান। যার কারণে লম্বা লাইন তৈরি হয়। ধরুন একসাথে দেড় থেকে দুইশ লোক লাইনে দাঁড়ালে শেষের জনের সিরিয়াল দেরিতে আসবে। সেজন্য বলা যাবে না, আমাদের কারণে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।

তবে বৃষ্টির মধ্যে লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন- এ কষ্ট কিছুদিন পর থাকবে না। ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশন অফিসের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য টেন্ডারও হয়ে গেছে। আশাকরি খুব শ্রীঘ্রই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। আর এই ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে একসাথে এক হাজার লোক দাঁড়াতে পারবে। তখন এই সমস্যাটা থাকবে না।

আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ যারাই টাকা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তারাই এসব বিষয়ে কথা বলছেন। আর আমাদের এখানে টাকার লেনদেনের সুযোগ নেই।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ