আজ বুধবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

হাসপাতালে দুর্নীতি, জনতার মানববন্ধনে ছাত্রলীগের বাধা

  • আপডেট টাইম : August 26, 2019 7:51 PM

জেলা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘হাসপাতাল দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ পূর্ব নির্ধারিত মানববন্ধন পণ্ড করে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

সোমবার দুপুর ১২টায় শহরের আলফাত স্কয়ারের পূর্ব নির্ধারিত মানববন্ধনটি পণ্ড করে দেয় তারা।

এ সময় ট্রাফিক পয়েন্টে কোনো মানববন্ধন করা যাবে না বলে ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ এবং রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করতে থাকে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মানবন্ধন না করার জন্য সুধীজনকে অনুরোধ জানালে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেখান থেকে চলে যান তারা।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যাহত করেছে। এর প্রতিবাদে গত এক মাসে চারটি মানববন্ধন ও একটি প্রতিবাদ সভা করেছেন নাগরিকরা। তারা এসব কর্মসূচিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আশুতোষ দাশসহ হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এরই অংশ হিসেবে সোমবার মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে মানববন্ধনে আসা লোকজন কর্মসূচিতে দাঁড়ালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে’র নেতৃত্বে কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে তাদেরকে মানববন্ধন করতে নিষেধ করা হয়।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মানববন্ধন না করতে অনুরোধ জানান। এ অবস্থায় আলফাত স্কয়ার থেকে মানববন্ধন সরিয়ে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে গেলে সেখানে মানববন্ধন করতে বাধা দেয় পুলিশ।

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে বলেন, মানববন্ধনে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ছিল। তাছাড়া এ মানববন্ধনে মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা ছিল। তারা মানববন্ধনে সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলায় ছাত্রলীগ অবস্থান নেয়। পাশাপাশি মানববন্ধনের প্রতিবাদ করি আমরা।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সুজন বলেন, মানববন্ধনে জামায়াত-বিএনপির কেউ ছিল না। আমরা সচেতন সুনামগঞ্জবাসী সদর হাসপাতালের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। আজকের মানববন্ধনে বাধা খুবই নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সুনামগঞ্জ দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির আহ্বায়ক এনামুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। আমরা সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলতে চেয়েছিলাম। জানি না জেলা ছাত্রলীগ কেন এমন করছে? আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা এখান থেকে চলে যাচ্ছি। তবে একটা কথা বলতে চাই অন্যায় চিরদিন থাকে না, থাকতে পারে না।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন নবী বলেন, মানববন্ধন চলাকালে দুটি সংগঠন একসঙ্গে অবস্থান নেয়ায় আমরা সেখানে অবস্থান নিই। কাউকে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ