আজ শুক্রবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

দিরাই-মদনপুর সড়কের কাঠইর বেইলি ব্রিজ যেন ‘মরণফাঁদ’

  • আপডেট টাইম : September 2, 2019 11:46 AM

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক)

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের কয়েক উপজেলাবাসীর যোগাযোগের একমাত্র দিরাই-মদনপুর সড়কের কাঠইর বেইলি ব্রিজটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে প্রায়শ যান চলাচল বন্ধের ঘটনাও ঘটছে। আড়াই দশক আগে নির্মিত সরু বেইলি ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ না করায় বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।

এব্যাপারে জানতে চেয়ে সড়ক বিভাগ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের দাপ্তরিক সেল ফোনে ৩ দিনে দশবারেরও বেশি কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন। কাঠইর বেইলি ব্রিজের স্থলে ১৪০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সয়েল টেস্টের পর বর্তমানে ডিজাইন তৈরির কাজ চলছে। এরপর প্রকল্প তৈরি করা হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ দশকের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে দিরাই-মদনপুর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন যোগাযোগা মন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) সড়কটির উদ্বোধন করেন। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত সড়কটি শুরুতে সরু থাকলেও পরবর্তীতে তা পাল্টে যায়।

বর্তমানে সড়কটি ১৮ দশমিক ৪ ফুট প্রশস্ত। ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণসুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলার লোকজন যাতায়াত করেন। এ সকল উপজেলার সব হাট-বাজারের মালামালও এ সড়ক দিয়েই গন্তব্যে নিয়ে যেতে হয়। ৩টি সংসদীয় আসনে সড়কের অবস্থান হলেও সড়কের প্রধান ব্রিজটি পড়েছে সুনামগঞ্জ-৪ সংসদী এলাকায়। ব্রিজটি যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমান অবস্থা একেবারেই নাজুক। স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এর বর্ণনাও দেন।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সংস্কার কাজ করার ফলে বর্তমানে জেলার মধ্যে ভালো সড়ক হিসেবেই লোকজনের মাঝে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র কাঠইর বেইলি ব্রিজের কারণে লোকজনকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। মরা সুরমা নদির উপর নির্মিত ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রায়ই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

লক্কর-ঝক্কর বেইলি ব্রিজটিতে একসাথে দুটো যান চলাচল করতে পারে না। আবার যাত্রীবাহী বাস অতিক্রমকালে ব্রিজটিতে কাঁপুনি শুরু হয়। পুরো ব্রিজটির সবকটি পাটাতনই ‘জোড়াতালি’ দেয়া বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা বহাল থাকলে হঠাৎ করে ভেঙে পড়ারও আশঙ্কা করছেন তারা। ব্রিজ দিয়ে দিরাই -জামালগঞ্জগামী যানবাহন চলাচল করে। ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় এসকল উপজেলার যাত্রী পরিবহনের যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের যানবাহন আটকা পড়ে।

এদিকে, দিরাই- মদনপুর সড়কের দরগাহপুর ও গাগলী বেইলি ব্রিজও ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিকবার ব্রিজ দুটি ভেঙে টানা কয়েক দিন এ সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সড়ক বিভাগ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের দাপ্তরিক সেল ফোন কল দেয়া হলেও রিসিভ করেননি। এসএমএস দেয়ার পরও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সওজের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, কাঠইরসহ ৩ বেইলি ব্রিজ নতুন করে গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্যে ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। ডিজাইন করার পর প্রকল্প তৈরি করা হবে। এরপর প্রকল্প অনুমোদনের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, কাঠইর ব্রিজ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি ৭১ বিধিতে জাতীয় সংসদে তুলেছিলাম। ব্রিজটি দ্রুত নতুন করে নির্মাণের জন্যে বার বার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যাওয়ার পর হাজার হাজার লোকজন দুর্ভোগ পড়েন। একমাত্র তারাই জানেন এটা কত নির্মম। রোগীরা যেতে পারেন না, মালামাল নেয়া যায় না। সুনামগঞ্জে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে। এই ব্রিজটি ও নতুন করে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ