আজ শুক্রবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

কারো ধান ঢুকছে গোদামে, কারো পকেটে ঢুকছে টাকা

  • আপডেট টাইম : September 3, 2019 8:33 AM

ডেস্ক রিপোর্ট : সুনামগঞ্জের সরকারি খাদ্যগোদামে কৃষকের নামে ঢুকে ধান আর পকেটে টাকা গুনে নিচ্ছেন দালাল ফড়িয়ারা।

লটারিতে কৃষক নির্বাচন হলেও অধিকাংশ কৃষিকার্ড প্রভাবশালী এসব দালাল ফড়িয়াদের দখলে। এভাবে প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হওয়ার গল্প এখন ঘরে ঘরে।

এমন ধারা অব্যাহত থাকলে বোরো আবাদ থেকে আগ্রহ হারাবে কৃষক। এদিকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সর্বশেষ মেয়াদ হলেও এখনও পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি ধান ঢুকেনি গুদামে। এছাড়া উৎপাদনের তুলনায় ১ শতাংশ ধান কিনতে পারেনি সরকার। এনিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাওর জুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, জেলায় সরকারি ভাবে ১০৪০ টাকা দরে গুদামে ধান বিক্রির ঘোষণা দেয় সরকার। এতে প্রান্তিক ও নারী কৃষকদের অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে। দুই দফায় মোট ১৭ হাজার ৩৫৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৩১ আগস্টের মধ্যে ধান ঢুকেনি গুদামে। এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ধান ঢুকেছে গুদামে সেই কৃষক তালিকা অনুসন্ধান করলেই বেরিয়ে আসবে লের বিড়াল। অধিকাংশ কার্ডে দেখা গেছে তারা কৃষক হলেও ধান দিচ্ছেন প্রভাবশালী নেতারা। গুদামে ধান ঢোকার পর সব টাকা পকেটে নিয়ে যান এসব নেতারা। কার্ডের বিনিময়ে কৃষকের হাতে ৫০০/১০০০টাকা পকেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অল্প টাকার বিনিময়ে কৃষিকার্ড বিক্রির ধুম চলছে এ জেলায়। কৃষকরা জেনে গেছেন যে, কোনোদিনও নিজেদের ধান গুদামে দেওয়া সম্ভব না।

এখানকার সিস্টেম এরকমই। এছাড়া যখন ধান গুদামে ঢুকছে তখন প্রান্তিক কৃষকের ঘরে খোরাকির ধান ছাড়া বিক্রির কোনো ধান নেই। তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে কার ধান ঢুকছে গুদামে, কার পকেটে ঢুকছে টাকা। এখানেও কাহিনী শোনা যাচ্ছে যে, গোদামের দায়িত্বে থাকা এল এস ডি’রা টন প্রতি ২০০০টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করছেন। কোথাও কোথাও এলএসডি’রা দিনে ঘুষ নেন রাতে গুদামে ধান তুলেন। ধান ঝরঝরে কিনা উৎকোচ পেলে এসব তারা খুঁজেন না। খাদ্য গোদামের এবার যে সময়ে ধান সংগ্রহ হচ্ছে এর থেকে এক মাস আগে ধান সংগ্রহ করলে কৃষকদের ধান সহজেই গুদামে কিনতে পারতেন। হাওর নেতারা আগামীতে বৈশাখের পর পরই সরকারীভাবে গুদামে ধান সংরক্ষণের উপযোগী সময় বলে মনে করেন।

জেলায় মোট ৩ লক্ষ কৃষক রয়েছেন। এ তুলনায় ১ শতাংশ কৃষকও গুদামে ধান দিতে পারে নাই। আবার কাগজে কলমে ১ শতাংশ কৃষকের তালিকা থাকলেও সেটি তদন্ত করলে শতাংশের হিসাব প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসতে পারে। কৃষকরা প্রতি বছরই প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে বোরো আবাদ করে থাকেন। উৎপাদনের তুলনায় ধান বিক্রি করে খরচ পোষায় না। এক মন ধানে ১ কেজি ছাগলের মাংস কেনা যায়না। এ পেশায় এমন হলে কিভাবে ঠিকবে কৃষক। সরকার দালাল ফড়িয়াদের তাড়িয়ে প্রকৃত কৃষককে সময় মতো ধান বিক্রির সুযোগ দিলে এ পেশায় টিকে থাকা সম্ভব বলে মনে করেন হাওরবাসী।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষক নুরুল আমিন ,আবুল কাশেম জানান,আমাদের গ্রাম থেকে ১০টি কৃষি কার্ড কৃষি উপসহকারির কাছে জমা হয়েছে। একটিও নাকি লটারিতে টিকেনি। লটারি কখন কোথায় হয়েছে কেউ জানে না। আবার দেখা গেছে কোনো গ্রামে ৩০/৩৫জন কৃষকের নাম তালিকায় উঠেছে। এদের কারো ঘরে ধান নেই। নেতারা নাকি ধান কিনে এনে এদের নামে গুদামে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে কৃষক পেয়েছেন ৫০০/১০০০টাকা। শাল্লা উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আমাদের ধান নেই,কার্ড আছে। কার্ড প্রতি ১হাজার টাকা পেয়েছেন। বাকি টাকা এলাকার একজন নেতা নিয়ে গেছেন। জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৫মেট্রিক টন ধানের হিসাব নেই তালিকায়। এমন অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর করেছেন নয়াহালট গ্রামের জিয়াউর রহমান। এখন প্রশ্ন উঠেছে এ ধান কার নামে ঢুকবে গুদামে? জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, টন প্রতি ২ হাজার টাকা নেয়ার কোন অভিযোগ পাইনি। তবে কেউ অভিযোগ ধরিয়ে দিতে পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ