আজ রবিবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং

বাউল সম্রাটের মৃত্যুবার্ষিকীতে দায়সারা অনুষ্ঠান

  • আপডেট টাইম : September 12, 2019 10:14 AM

জেলা প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : বৃহস্পতিবার বাউল শাহ্ আব্দুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে তেমন কোন বড় বা ঝাকঝমকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাকে স্মরণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয়রা ও বাউল শিল্পীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার বলেছেন, শিল্পকলা একাডেমীর যে বার্ষিক বরাদ্ধ রয়েছে, সেই বরাদ্ধ খুবই অপ্রতুল সেই জন্য বাউলদের অনুষ্ঠান তেমন বড় বা ঝাকঝমকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়না।

অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ্ আব্দুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনয়িনের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আমৃত্যু তিনি উজানধল গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন তিনি। গানে-গানে অর্ধ শতাব্দিরও বেশী লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লা নারও শিকার হয়েছিলেন তিনি।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে ছেড়ে চলে যান এই বাউল। প্রতি বছরের মতো এবারও গণ-মানুষের প্রিয় এই বাউলের মৃত্যুবার্ষিকীতে তেমন কোন ঝাকঝমক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি জেলা শিল্পকলা একাডেমী। ফলে স্থানীয় ও বাউল শিল্পীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষাবিদ শেরগুল আহমদ জানান, সুনামগঞ্জের প্রতিভাবান লোক শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের ১০ম মৃত্যু বার্ষিকী বৃহস্পতিবার। আমরা জানি বাউল শাহ আব্দুল করিমকে ২১ পদকে ঘোষিত করা হয়েছে। কিন্তু এমন গুনীর মৃত্যু বার্ষিকী পালনে তেমন কোন উদ্যোগ আমরা দেখছি না। জেলা প্রশাসন থেকে আমি মনে করি এর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এবং বাউল শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যু বার্ষিকী ঝাকঝমক ভাবে পালন করা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সুনামগেঞ্জ যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় তাতে শাহ আব্দুল করিমের গান বেশি প্রদান্ন পায়। শুধু আমাদের এই অ লে নয়, সারাদেশ বিদেশে শাহ আব্দুল করিমের গান বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু আমাদের সুনামগঞ্জে শাহ আব্দুল করিমকে তেমন মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমাদের দাবি এই ২১ শে পদক প্রাপ্ত শাহ আব্দুল করিমকে যেন যথাযত মূল্যায়ন করা হয়।

নাট্যকর্মী শাহ আবু নাসের জানান, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম আমাদের হাওর অ লের গর্ব। আজ তার ১০ম মহা প্রয়াণ দিবস। বাউল সম্রাটের মহা প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে সাংস্কৃতিক কর্মী যারা রয়েছি তারা ছোট খাটো অনুষ্ঠান করছি। এই অনুষ্ঠান গুলোকে আরো বৃহৎ পরিশরে যাতে করা যায় ভবিষ্যৎএ আমাদের এই পরিকল্পনা করা উচিৎ।

বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার আব্দুল আজিজ চৌধুরী জানান, বাউল আব্দুল করিম উনি গান গেয়ে যে সুনাম অর্জন করেছেন তা সত্যি অবাক হওয়ার মতো। টিভি খুললেই এই গুনী শিল্পীর গান দেশ বিদেশে প্রচার হচ্ছে তা আমরা দেখতে পাই। এবং গ্রাম গঞ্জের সবাই এই সম্রাটের গান গাচ্ছে। আব্দুল করিম আমাদের গর্ব কিন্তু তার জন্ম বা মৃত্যু বার্ষিকীতে বড় করে কোন আয়োজন করা হয়না সেটা আসলেই দুখ জনক, হতাশা জনক। আমরা জেলা শিল্পকলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই এই গুনী শিল্পীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে যেন ঝাকঝমক ভাবে আয়োজন করা হয়।

সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক আল হেলাল জানান, সুনামগঞ্জ হচ্ছে প রত্ন বাউলের দেশ। এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন বৈষব কবি রাধারমণ দত্ত, মরমী কবি হাসন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, দুর্বীণ শাহ ও কামাল পাশা। আমরা চাই এই প রত্ন বাউলের জন্ম এবং মৃত্যু বার্ষিকীতে জেলা শিল্পকলার একাডেমী ঝাকঝমক ভাবে পালন করে। আমরা এই দাবি জানাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আলহাবিব জানান, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের শহ কোন গুনী শিল্পীর ঝাকঝমক ভাবে জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়না। শুধু দায়সারা অনুষ্ঠান করা হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে। আমাদের আগামী দিনের তরুণদের দাবি যে দায়সারা নয়, প্রতিবছর যাতে এই সব গুনী শিল্পীদের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী ঝাকঝমকভাবে করা হয় সেই দাবি জানাই।

সুনামগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল জানান, আমাদের জেলা শিল্পকলা একাডেমীর যে বার্ষিক বরাদ্ধ রয়েছে, সেই বরাদ্ধ খুবই অপ্রতুল, আমরা যদি বড় কোন বরাদ্ধ পাই তাহলে অবশ্যই আমরা সকল বাউলদের অনুষ্ঠান বড় করে করবো।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন..

এই সম্পর্কিত আরও নিউজ